জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

শুক্র থেকে সোম আবারো টানা অবরোধ!

131126095533_bangladesh_strike_512x288_focusbangla_nocredit রেজা মাহমুদ,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা(২৭নভেম্বর):  নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আবারো টানা অবরোধের কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা যাতে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে না পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশব্যাপী আবারো টানা অবরোধের কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৮ দল।

এদিকে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। আর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন আগামী সোমবার এবং আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আর তফসিল ঘোষণার পর পরই ওইদিন রাতে খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতার সঙ্গে নির্বাচনের তফসিল ও আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখান করে এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে দেশব্যাপী টানা ৪৮ ঘণ্টা রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট, যা বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় শেষ হবে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘অবরোধ শেষে নতুন কী ধরনের কর্মসূচি আসছে’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই কর্মসূচি (অবরোধ) শেষ হওয়ার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

বৈঠক সূত্র জানায়, দুইদিনের অবরোধের পরও তফসিল স্থগিত করা না হলে রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল প্রতিহত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। আর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন । তবে অবরোধ কর্মসূচি চলায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সুবিধার্থে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শুক্রবার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় খোলা রাখা হতে পারে বলে মনে করছে ১৮ দল।

তাই শুক্রবারকেও অবরোধের আওতায় রাখতে চায় তারা। সে লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশব্যাপী আবারো টানা অবরোধের কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবিতে এর আগে তিন দফায় মোট ২০৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।

গত ২৫ অক্টোবর থেকে সরকার অবৈধ এবং ২৭ অক্টোবর থেকে সরকার সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে দাবি করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে গত ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর টানা ৬০ ঘণ্টা, ৪ থেকে ৬ নভেম্বর আবারো টানা ৬০ ঘণ্টা এবং সর্বশেষ গত ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী টানা ৮৪ ঘণ্টাসহ তিন দফায় মোট ২০৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করে ১৮ দলীয় জোট।

এদিকে বিরোধী দলের দাবি নিয়ে সরকারের মনোভাব জানতে চেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মঙ্গলবার রাতে আবারো চিঠি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সূত্র মতে, গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকায় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজানের বাসায় বৈঠক করেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মহাসচিব। ওই বৈঠকে মির্জা ফখরুল বিরোধী জোটের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবি সম্বলিত একটি চিঠি সৈয়দ আশরাফকে দেন।

সূত্র আরো জানায়, মূলত ওই চিঠির বিষয়ে অগ্রগতি জানতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বার্তা বাহকের মাধ্যমে সৈয়দ আশরাফকে চিঠি দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। আর চিঠির জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিরোধী দলের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইতোমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

তবে সংলাপের ব্যাপারে অবিলম্বে নাটকীয় কোনো অগ্রগতি না হলে আগামী শুক্রবার থেকে দেশ আবারো টানা অবরোধের কবলে পড়তে যাচ্ছে বলে বিএনপি ও ১৮ দল সূত্রে জানা গেছে।

কর্মসূচি প্রসঙ্গে এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বিবার্তাকে বলেন, একতরফা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঘোষিত তফসিল স্থগিত এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবি মানা না হলে ১৮ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আর এ লক্ষ্যে  কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।