জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

তফসিল থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে আ.লীগের নেতা-কর্মীরা

 হটনিউজ প্রতিবেদক,২৪নভেম্বর,ঢাকা: আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চলমান অনড় অবস্থান বিভিন্ন মহলে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, নির্বাচন যথাসময় হবে তো? এমন ভাবনার জবাবে শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, যথাসময়েই নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে প্রায় সকল রাজনৈতিক দলই অংশ নেবে। সে লক্ষ্যেই ছক কষে এগুনো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারণী নেতা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

ওই নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি’ শক্ত হাতে দমন করা হবে। জনগণের জান-মাল রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না সরকার। প্রয়োজনে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদেরও গ্রেফতার করা হতে পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ বিষয়ে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হবে বলে খালেদা জিয়া ও তার দল নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। নির্বাচন বানচালের নামে যারাই নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও বিরোধী দলকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তফসিল ঘোষণার দিন থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড থেকে। এভাবে বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবেলার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

জানা গেছে, বিএনপি বাদে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা চলমান রয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ‘নির্বাচনী দর কষাকষি’ করছেন। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বাম দল, ইসলামিক দল এবং ১৮ দলীয় জোটের শরিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করাতে পেরেছেন সরকারি দলের নেতারা।

জাতীয় পার্টি, জেপি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, ত্বরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মতো কিছু দল প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিলেও বাকি দলগুলো গোপনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বে তিনটি দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরো জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চাপ সৃষ্টি করবেন। তিনি নির্বাচনে আসতে রজি না হলে বিএনপির অনেকেই তখন অন্য দলে যোগ দিয়ে অথবা দলত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ভেবে রেখেছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য  যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপ হোক আর না হোক, আমার বিশ্বাস, বিএনপি নির্বাচনে না এসে পারবে না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ভোটের বাক্সে লাথি মারার কথা বলে মাওলানা ভাসানী যেমন ’৭০ এর নির্বাচন ঠেকাতে পারেননি। তেমনি খালেদা জিয়াও আগামী নির্বাচন ঠেকাতে পারবেন না।

বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপির একটা বড় অংশ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া তার জোটের নেতাদের ধরে রাখতে পারবেন না। নির্বাচন বর্জন করলে তিনি একা হয়ে পড়বেন। পরবর্তীতে তাকে নিজের দল রক্ষার জন্য মাঠে নামতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিলে খালেদা জিয়ার দলের অস্তিত্ব থাকবে না। বিএনপির অনেক নেতাই বিএনপি ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিবে।

বিএনপি নির্বাচনে না আসলে দেশে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না দাবি করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করেছিল। তাতে কোনো দল অংশ নেয়নি। কিন্তু এবার বিএনপি ছাড়া অন্য সব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যে কারণে এই নির্বাচনকে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মনে করার কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, বিএনপির আন্দোলন নিয়ে তারা খুব বেশি ভাবছেন না। ভাবছেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি, অন্যান্য দলগুলোকে নির্বাচনে আনা, উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টির ব্যাপারে। নির্বাচনী সরকারের অধীনে নির্বাচক কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

আর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, দেশের সব গাড়ি ভেঙে ফেললেও যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে। তিনি আরো বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল চাইলে নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে। তবে নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টা অসাংবিধানিক, রাষ্ট্রবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী।