চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি

‘বিশ্বাসঘাতক এরশাদ বদদোয়া নিয়ে গেছেন’

 নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, ২৪ নভেম্বর:  জাতির সাথে চরম বিশ্বাস ভঙ্গকারী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দোয়া নিতে এসে হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ এর আমীরের কাছ থেকে বদদোয়া নিয়ে গেছেন। জনগণের বিশ্বাসভঙ্গের করুণ পরিণতি থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান রেহাই পাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব আল্লামা জোনায়েদ বাবুনগরী।

শনিবার সন্ধ্যায় হেফাজত ইসলামের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

মহাসচিব বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘হেফাজতের আমীর আল্লামা শফির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দোয়া নয়, বরং বদদোয়াই নিয়ে গেছেন। হেফাজত আমীর মাঠে-ময়দানে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের সাফল্য কামনা করে দোয়া করেছিলেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বর্তমান রাজনৈতিক যে অবস্থান, তাতে এটা কখনোই তার জন্য দোয়া বলা যায় না, বরং বদদোয়াই বলতে হয়।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় এরশাদের সঙ্গে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে মহাসচিব হিসেবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কুশল বিনিময় শেষে হেফাজত আমীর এরশাদকে ঈমান-আমল ও ইসলামের উপর চলার জন্য হিদায়াতী বিভিন্ন উপদেশ দেন। পাশাপাশি ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদীদের বিভিন্ন অপতৎপরতার কথা তুলে ধরে এরশাদকে তার দলীয় অবস্থান থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

তখন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছিলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে জাতীয় পার্টির বিগত সরকার ইসলামের পক্ষে কাজ করেছিল। বর্তমান সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা বাদ দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা জানিয়েছে, নাস্তিকদের চাপে তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে আমি দেইনি।’

বাবুনগরী দাবি করেন, ‘এরশাদ আরো বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে মসজিদে আযান দেয়া বন্ধ করে দেবে। ওয়াজ-মাহফিল নিষিদ্ধসহ ইসলামবিরোধী অনেক কাজ শুরু হয়ে যাবে। মাদরাসা শিক্ষা বন্ধসহ আলেম-ওলামাদেরকে ইসলামের পক্ষে কাজ করতে দেবে না। দেশে ইসলাম থাকবে না।’

বিবৃতিতে আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে এরশাদকে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার জন্য স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরশাদ তার প্রতি হেফাজতের সমর্থন কামনার কোনো সুযোগই না পেয়ে তখন বলেছিলেন, ‘আমি সমর্থন লাভের জন্য নয়, হুজুরের দোয়া নেয়ার জন্য এসেছি।’

দোয়ার সময় হুজুর এরশাদের মনের সৎ উদ্দেশ্য কবুল এবং যারা ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করবে, তাদের সাফল্যের জন্য দোয়া করেছিলেন। হেফাজত আমীর ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদ ও তাদের দোসরদের থেকে বাংলাদেশকে হেফাজত করা অথবা তাদেরকে ধ্বংস করার জন্যও দোয়া করেছিলেন।’

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, এরশাদ ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে নানা মুখরোচক বুলি আওড়ালেও কার্যক্ষেত্রে বর্তমানে তার ইসলামবিরোধী ভূমিকাই জাতির কাছে স্পষ্ট হয়েছে। সেই শুরু থেকেই তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ইসলামকে ব্যবহার করে আসছেন বলে অনেক উলামায়ে কেরাম মত দিচ্ছেন। ইসলামের পক্ষে বিভিন্ন ভূমিকার কথা বললেও বাস্তব জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের ছিটেফোঁটাও এরশাদ সাহেবের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না। ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে বড় বড় কথা বলে এরশাদ সাহেব আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতাকে ধোঁকা দিচ্ছেন। তার বর্তমান ভূমিকায় উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা যারপর নাই তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। সারাদেশে তার প্রতি গণধিক্কার চলছে।

হেফাজতের আন্দোলন ও শাপলা চত্বর নিয়ে এতদিন এরশাদ সাহেবের মুখে ইসলামের পক্ষে বুলি আওড়াতে দেখা গেলেও এটা যে চতুরতার অংশ, তা বুঝতে এখন বাকী নেই। মূলতঃ এরশাদ তার স্বৈরচারী শাসনামল থেকেই ক্ষমতা ও ভোগবাদিতার জন্য নানা ডিগবাজি দেখিয়ে আসছেন।