কৃষি ঢাকা নেত্রকোণা

মদনের মাঠে মাঠে দুলছে আমন ধানের সোনালী শ্রমিক সংকট, কৃষকরা হতাস

  মদন ,নেত্রকোনা থেকে:  নেত্রকোনার ভাটী অঞ্চল নামে খ্যাত মদন উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে বিস্তৃত মাঠ জোরে
এখন আমন ধানের সোনালী শীষ দোলা দিচ্ছে। বাতাসে শীষের দোলায়  কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। অল্প পরিসরে ধান কাটা শুরু হলেও
কয়েকদিন পর পুরোদমে ধান কাটা এবং মাড়াই শুরু হবে। তবে ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষক চিন্তিত। সেইসঙ্গে দাদন ব্যবসায়ীদের
তৎপড়তাও শুরু হয়েছে। চানগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক, মৈধাম গ্রামের বাবুল মিয়া ও চানগাঁও গ্রামের জলিল মিয়া জানান, এবার বৈরী আবহাওয়া এবং দেরীতে বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদে বিলম্ব হলেও কৃষকরা পরবর্তী সময় প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে সামনের দিকে বড় ধরনের আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দের থেকে দুইগুন বেশি ফসল কৃষকের ঘরে উঠবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার এই উপজেলায় আবাদের লক্ষমাত্রা উপশী ৫ হাজার ৭শত এবং স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৬শত হেক্টর থাকলেও লক্ষমাত্রার চেয়ে অবাদ হয়েছে প্রায় ৭শত ৫০ হেক্টর বেশি জমি। ফসল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল উপশী ১৫ হাজার ৪শত ৬৭ মে.টন। স্থানীয় ৫ হাজার ৭শত ৬০ মে.টন। লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমি চাষের ফলে উৎপাদনও বেড়ে যাবে। সবমিলিয়ে ২৫ হাজার ৩শত মে.টন ফসল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এলাকা সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় আমন চাষের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরপুর ধলিয়াকুড়ির হাওড়, ফতেপুর তলার হাওড়সহ আরো আনেক হাওড়ে সরিষা
চাষেরও ধুম পড়েছে। যতদূর চোখ যায় চারিদিকে সোনালী ফসলের সমারোহ। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় সময়মত বৃষ্টিপাতের সমস্যা হওয়ায় দেরীতে জমিতে চারা রোপনও বিলম্ব হয়, ফলে ফসল কাটতে সামান্য দেরী বেতিরেকে এবার আমন আবাদ করতে গিয়ে তাঁদের অন্য কোন ঝামেলা পোহাতে হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক এলাকার কৃষক জানান, বীজ, সার,কীটনাষকের সংকট না হলেও সময়মত প্রকৃত কৃষক ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদাশীনতার কারণে কৃষি ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়ে মহাজনি ঋণের দিকে হাত বাড়ায়। আরও অভিযোগ করেন যে, উপজেলা কৃষি অফিসের এরিয়া সুপার ভাইজারদের অসহযোগীতার কারণে কৃষকাদের অনেক হয়রানী হতে হয়। মূলত কৃষি অফিসের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে সহযোগীতা করতে
তেমন একটা দেখা যায়না বলে জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসারদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে অভিযোগের ব্যাপারে মতামত নিতে এই প্রতিবেদক ব্যর্থ হন।
ধানকাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই গ্রাম এলাকায়
মৌসুমী শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা ধান
কাটা ও মাড়াই সহ তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলা নিয়ে হতাশায়
ভোগছেন।