জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, সেনাপতি ছিলাম!

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৩ নভেম্বর:  ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নাই। আমি সেনাপতি ছিলাম। কারো রক্তচক্ষুকে আমি ভয় পাইনা। নির্বাচনে আসবো কি আসবো না এ ব্যাপারে আমি কারো সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নই। আমি জনগণের সাথে চুক্তিবদ্ধ। জনগণের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বলেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শনিবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে জাপা’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত নির্বাচনকালীন সরকারের নতুন মন্ত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে গিয়ে কি অন্যায় করেছি? কেনো সমালোচনা করছেন? আমি জনগণের মনের ভাষ বুঝি। তাই নির্বাচনে যওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।’

এরশাদ বলেন, ‘আমি বলেছিলাম একা নির্বাচন করবো, একাই করছি। বলেছিলাম, লেজুড় ভিত্তিক রাজনীতি করবো না, করছি না। নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আমি ভুল করিনি। বরং জনগণকে সহিংসতা থেকে মুক্তি দিয়েছি।’

সরকারকে জালেম উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, এই দুর্নীতিবাজ জালেম সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার একমাত্র পথ নির্বাচন। সহিংসতা চালিয়ে কোনো সরকারকে উৎখাত করা যায় না।

তিনি আরো বলেন, আমার এই সিদ্ধান্তে জাপায় কোনো বিভক্তি সৃষ্টি হয়নি। বরং উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়েছে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমি বলেছিলাম সব দল না আসলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। কিন্তু সব দল নির্বাচনে আসছে না। কিছু দল নির্বাচনের বাইরে থেকে যায়। নির্বাচন না করলে কোনো দলের অস্তিত্ব থাকে না। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে না অংশগ্রহণ করলে জাতীয় পার্টি ধ্বংস হয়ে যেতো। তাই সেই ফাঁদে আর পা দিতে চাই না।

বিএনপি নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, আমার সামনে দু’টি পথ ছিলো নির্বাচন আসা না আসা। নির্বাচনে না আসলে দেশে হরতাল- সহিংসতা বেড়ে যেতো। ছেলে মেয়েদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হতো। আমরা তা চাই না। আমরা হরতালকে কখনোই সমর্থন করতে পারি না।

অনুষ্ঠানে নব-নিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাপা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

অনুষ্ঠানে  যুব সংহতির সভাপতি এ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, মহাসচিব ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মুজিবল হক চুন্নু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম, প্রধামন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু প্রমুখ।