জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

ব্যাচেলরদের উপর পুলিশের নজরদারী

আছাদুজ্জামান, ঢাকা, ২৩ নভেম্বর :  রাজধানীর বাসা বাড়িতে ব্যাচেলর ব্যক্তিকে ফ্ল্যাট, মেস বা কোয়ার্টার ভাড়া দেয়া যাবে না। যারা আছেন তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি পুলিশের সদর দফতর থেকে ডিএমপির থানাগুলোকে এমন একটি নির্দেশনা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নগরীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ভাড়া নেয়া মেস কোয়ার্টারগুলো এখন পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু মেস কোয়ার্টার থেকে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ায় পুলিশের টনক নড়েছে।

তারা আরো বলছেন, ওইসব বাসা বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে হরতালে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

এ কারণে নগরীর যেসব এলাকায় মেস বা ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয়া হয়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা। ওই তালিকা অনুযায়ী অনেক বাড়ির মালিককে ব্যাচেলরদের উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশও দিয়েছে পুলিশ।

আর পুলিশের এমন নির্দেশে মেস কোয়ার্টার বাড়ি মালিকদের পাশাপাশি ব্যাচেলরদের মধ্যেও চরম ক্ষোভ এবং হতাশা দেখা দিয়েছে।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন সিদ্ধান্তকে আইন বহির্ভুত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারের কয়েকটি সংগঠন।

তারা বলছেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প চিন্তা করা উচিত। কতিপয় অপরাধীর কারণে এমন ঢালাওভাবে সবাইকে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক নয়। এতে করে গৃহহীন হবে লাখ লাখ ব্যাচেলর।

এক জরিপে দেখা গেছে নগরীতে প্রায় ৪৫ হাজার বাসা-বাড়িতে মেস কোয়ার্টার আছে। এতে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ব্যাচেলর বসবাস করছেন।

এরমধ্যে ছোট-বড় প্রায় চার হাজার ৫৫৬টি মেস কোয়ার্টার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।

গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানায়, সম্প্রতি বিরোধী দলের ডাকা হরতালের আগে ও পরে নগরীতে নাশকতা করছে দুষ্কৃতকারীরা। এসব ঘটনায় গোটা নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আর ওইসব নাশকতার পরিকল্পনা করা হয় নগরীর বিভিন্ন মেসে, এমন তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। তাই জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেস বাসার একজন ব্যাচেলর সদস্য হটনিউজ২৪বিডি.কমকে জানায়, ` আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেস ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাড়ির মালিক নোটিশ দিয়েছে।  কারণ হিসেবে বাড়ির মালিক বলেছেন এটা পুলিশের নির্দেশ। আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন ঢাকায় নেই, এই মুহূর্তে আমি কোথায় যাবো ? এমন প্রশ্ন রাখেন ওই ব্যাচেলর।

পল্লবীর বি ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের বাড়িওয়ালা সাহদাত জামান স্বপন হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন, আমার বাড়িতে তিনটি মেস রুমে ব্যাচেলর ভাড়া থাকেন। পুলিশ এসে তাদের উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন তাদের উঠিয়ে দিলে ভাড়াটিয়া কোথায় পাবো।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এটা কেমন সিদ্ধান্ত?

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এলিনা খান শুক্রবার হটনিউজ২৪বিডি.কমকে জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্তে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

এটি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নয়, যে কোনো সময় বন্ধ এবং খুলে দিতে পারেন। তাছাড়া ব্যাচেলরদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয় আছে। শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী উভয় আছে। হঠাৎ করে বাসা ছেড়ে দেয়ার কোনো নির্দেশ দেয়া যায় না।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন সিদ্ধান্ত আইন বর্হিভূত বলে মন্তব্য করেন এলিনা খান।

এ ব্যাপারে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাসা বাড়িতে মেস কোয়ার্টার বা ব্যাচেলর থাকতে পারবেন না এমন একটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাড়ির মালিকদের। তবে সেটি নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত।