অপরাধ জাতীয় মৌলভীবাজার সিলেট

বন অধিদপ্তরের নিয়োগ কমিটির একক বাণিজ্য

এম শাহজাহান আহমদ, মৌলভীবাজার, ২২ নভেম্বর : পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতে ফরেষ্টার, ড্রাইভার এবং স্পীড বোট ড্রাইভার ও অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে বিগত ০৯/০৭/২০১০ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় । উক্ত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে বিগত ০৬/০৯/২০১৩ ইং তারিখে আগারগাঁও শেরেবাংলা নগর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকায় ২২৮ জন পরিক্ষার্থীর ফরেষ্টার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলাফল বিগত ২৯/০৯/২০১৩ ইং তারিখে বন অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে নভড়ৎবংঃ .মড়া.নফ) জানানো হয়। কিন্তু পরীক্ষায় ফরেষ্টার পদে ১১৪ টির বিপরীতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি রতন কুমার মজুমদার ১২০ জন প্রার্থীকে উর্ত্তীণ দেখিয়েছেন। এছাড়াও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এস. এস. সিতে বিজ্ঞান বিভাগ ও ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্ট্রি পাশের সনদের কথা উল্লেখ থাকলেও উক্ত নিয়ম অনুসরণ না করে মানবিক বিভাগ, ব্যবসায়িক বিভাগ ও ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্ট্রির সনদ ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উক্ত লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহনের আওতায় আনা হয়েছে। যা নিয়োগ বিধিমালার সর্ম্পূণ পরিপন্থী। রোল এফ-৪০,১২৯,২২৭ রোল এফ-১২৯ আব্দুল হাই ২০০৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষা র্বোড হতে বাণিজ্য
বিভাগে এস .এস. সি পাশ করেন। পরীক্ষার এস.এস.সির রোল নং ৫৬৭৩০৪। এ সমস্ত অনিয়মের কারনেই অনেক ফরেষ্ট্রি ডিপ্লোমাধারী প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার সুযোগ হতে বাদ পড়ে। দীর্ঘ দিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় অনেক ডিপ্লোমাধারী প্রার্থীদের চাকুরির কোন বয়স না থাকায় এই বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি না পেলে অন্যত্র চাকুরির ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকবে না। নিয়োগ কমিটির সভাপতি রতন কুমার মজুমদার অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান বন সংরক্ষক ও নিয়োগ কমিটির
সদস্য সচিব এবং সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্যদের জিম্মি করে শুধু মাত্র ফরেষ্টার পদে ১১৪ জন নিয়োগ প্রার্থীদের নিকট থেকে চার কোটি, ত্রিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ গেজেটের বিপরীতে ৫ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার নিচে ৫ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার প্রার্থী নিয়োগ দানের জন্য ভাইভা কার্ড ইস্যু করার পায়তারা করছেন। কথিত লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ (ফরেষ্টার পদে) ১২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯
জন প্রার্থী বিভিন্ন অধিদপ্তরে (পাসপোর্ট,স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও সিটি কর্পোরেশন রোল এফ-২৫৬) সরকারী চাকুরিতে নিয়োজিত আছেন।৩৭ জন প্রার্থী ৫ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার নিচে রয়েছেন। নন-ডিপ্লোমা আছেন রোল এফ- ২১৬ ওমর আলী খাঁন, পিতা: মোজাম্মেল খাঁন, মাতা: শাহিদা বেগম, গ্রাম: দেয়াড়া, পো: জুগিহাটি, থানা: রূপসা, জেলা: খুলনা। তার বড় ভাই মো:মামুন বর্তমানে বন বিভাগের খুলনা সার্কেলে বোটম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন। দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি পরীক্ষায় অবৈধভাবে অংশগ্রহনের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বন বিভাগে চাকুরি করে মা বাবা,আত্বীয়-স্বজন এরকম কোন প্রার্থীই উত্তীর্ণ হতে বাদ পড়েনি। রোল এফ-০৪,০৫,৮৩,৮৪,১০২,১৫৭এর মধ্যে রোল এফ- ১০২ মামুন শিকদার, উপজেলা: রাঙ্গুনিয়া জেলা: চট্টগ্রাম, তার পিতা- বন বিভাগের ফরেষ্ট গার্ড। রোল এফ-৮৪ মো: সাজ্জাদ হোসেন,পিতা-রফিকুল ইসলাম,অফিস সহকারী,বনভবন মহাখালী বন্যপ্রানী শাখায় কর্মরত। দরখাস্ত দাখিলের নিয়মাবলীর দুই নং কলামে স্পষ্ট লেখা আছে সকল প্রকার সনদের অনুলিপি আবেদন পত্রের সহিত সংযুক্ত করতে হবে। কিন্তু সনদ বিহীন দরখাস্তের আওতায় ১২ তম ব্যাচের ছাত্রবৃন্দ সকলেই তা দরখাস্তের সহিত সংযুক্ত করিতে ব্যর্থ হয়েছেন । এরা হল, রোল এফ ০৮, ১৫, ৩৩, ৩৭, ৪২, ৭৮, ৭৯, ৮৩, ৮৪, ৮৯, ৯১, ৯৪, ১১৪, ১২৪, ১২৯, ১৩০, ১৪৩, ১৬৩, ১৬৫, ১৭৫, ১৮৩, ১৮৬, ১৮৭, ১৯৯, ২২৭, ২৪১, ২৪৩, ২৪৫, ২৪৬, ২৫১। এছাড়াও নিম্ন রোল নম্বরধারী ছাত্রবৃন্দ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সময় শেষ হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পরে,ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্ট্রি কোর্স উত্তীর্ণ হয়ে,লিখিত পরিক্ষায়
অংশগ্রহন করেছেন। এরা হল,রোল এফ- ১১৯ গীতিময় তনচংগ, রোল এফ- ১২০ শীষেন্দ চাকমা, রোল এফ- ১৬৩ আরিফুর রহমান, জেলা: নাটোর। এছাড়াও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা, মুক্তিযোদ্ধা ও আনসার ভিডিপি কোটা অনুসরণ করার কথা
উল্লেখ থাকলেও টাকার বিনিময়ে তাহা বিজ্ঞপ্তিতেই চাপা পড়ে আছে। এই সমস্ত অনিয়মের কারনে মেধাবী ও বয়স না থাকা অনেক প্রার্থীই বাদ পড়েছেন। অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার সুযোগ থাকলেও ফরেষ্ট্রি ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ বন বিভাগ ছাড়া আর কোথাও চাকুরি করার কোন সুযোগ নেই, কাজেই ব্যাচ ভিত্তিক নিয়োগ দানের জন্য ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্ট্রি কোর্স উত্তীর্ণ ছাত্রদের দীর্ঘ দিনের দাবি থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনরূপ কর্ণপাত করছেন না। যার কারনে অনেক ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্ট্রি কোর্স উর্ত্তীণ ছাত্ররা দীর্ঘদিন বেকারত্বের অভিশাপে অভিশপ্ত। ফলে  ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্টি কোর্স উর্ত্তীণ ছাত্রদেরকে বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা-বাবা এবং পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য,বন অধিদপ্তরে রাজস্ব খাতে ফরেষ্টার পদে বর্তমানে ২৬৬টি পদ শুন্য রয়েছে। প্রধান বন সংরক্ষক মহোদয় বন বিভাগের জনবল সংকট নিরসনের জন্য সরকারী স্বার্থে ডিপ্লোমা-
ইন-ফরেষ্ট্রির দরিদ্র ও মানবেতর জীবন যাপন করা ছাত্রদের অবস্থা ভেবে নিয়োগ কমিটিকে ১১৪টি পদের বিপরীতে ১২০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ দেখানো খুবই নগন্য, কাজেই উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অফিস আদেশ পত্র দিয়েছেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব সহ সকল সদস্য উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে মত প্রকাশ করলেও রতন কুমার মজুমদার পূর্বে ভক্ষন করা টাকা হজম করার জন্য উত্তীর্ণ প্রার্থী বাড়ানোর ব্যাপারে অমত প্রকাশ করেছেন এবং নন-ডিপ্লোমা ছাত্রদের ডিপ্লোমা-ইন-ফরেষ্ট্রি বানিয়ে বিগত
২৯/০৯/২০১৩ইং তারিখের ফলাফলকেই পূর্ণ বহাল রেখেছেন। রতন কুমার মজুমদারের জাতীয়তাবোধ, মাতৃত্ববোধ, দেশাত্ববোধ যদি সামান্যতমও থাকত! তাহলে এই নিয়োগ কমিটির সভাপতি পদ ছেড়ে দিয়ে ,একজন সৎ,যোগ্য ও  ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিকে নিয়োগ কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগের সুযোগ দিয়ে,পূনরায় স্বচ্ছভাবে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করার জন্য নিজে সরে যেত। উপরোক্ত অনিয়মের যথাযথ অনুসন্ধানপূর্বক নিয়ম নীতি অনুসরণ করিয়া বন অধিদপ্তরে ফরেষ্টার পদে ব্যাচ ভিত্তিতে নিয়োগ দানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সহ পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর, দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, ও টিআইবির মহাপরিচালক মহোদয়ের বরাবরে ডিপ্লোমা-ইন-
ফরেষ্ট্রি কোর্স উত্তীর্ণ ছাত্ররা সবিনয় অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন আবেদন করেও সুফল পাচ্ছেন না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।
প্রয়োজনেঃ প্রধান বন-সরক্ষক মোঃ ইফনুছ আলীর মোবাইল ০১৭১৫-৩৭১৯৬৫/ ০১৭৬১৪৯৪৬০১নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান-রতন কুমার মজুমদার এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন,লিখিত পরীক্ষায় ১২০জন উর্ত্তীণ হওয়া মানেই কিন্তু নিয়োগ নয়। সরকারী সকল নিয়ম নীতি অনুসরন করে নিয়োগ পক্রিয়ার দিকে যাব দিকে যাব বলে তিনি এ প্রতিবদককে জানান । মোবাইল ০১৭৩৮-৩৬০২২১/ ০১৭৬১৪৯৪৬০৩
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব-আবু হানিফ পাটোয়ারী মোবাইল ০১৭৬১৪৯৪৬০৭ নাম্বারে যোগাযোগ করে তাদের মন্তব্য নেয়া যেতে পারে।