জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী আসনের হিসেব

হটনিউজ,প্রতিবেদক২২ নভেম্বর,ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী আসনের হিসেব কষা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছেড়ে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি চলে যাওয়ার পর এই হিসেবে যোগ হয়েছে নতুন সমীকরণ। আসছে নির্বাচনে আসন বিন্যাসে কৌশলী হবে আওয়ামী লীগ। মহাজোটত্যাগী দলগুলোর জন্যও কিছু আসন ছেড়ে দেয়ার চিন্তা রয়েছে দলটির। ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে এবার আর নৌকা মার্কায় নয় নিজ দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে বলা হবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। দলটির নীতি নির্ধারণী সূত্রে এ খবর জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি চলে যাওয়ার পর আমরা এখন দলগতভাবে প্রার্থী দেবো। কিছু আসন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলকে ছেড়ে দেবে।’ তবে ১৪ দলকে কয়টি আসন দেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনকালীন সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আলোচনা করে ঠিক করব। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’ একই প্রসঙ্গে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সংসদীয় বোর্ডের সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘৩০০ আসনে এবার আমরা প্রার্থী দেবো না। ১৪ দলের শরিক দলগুলো এবার নিজেদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। এবার নৌকা মার্কা নিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই নির্বাচন করবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের আরেক সদস্য বলেন, ‘যারা মহাজোট ছেড়ে চলে গেছে তাদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। সেক্ষেত্রে ওইসব আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।’

গত সোমবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে মহাজোট থেকে বের হয়ে যায় জাতীয় পার্টি। এর পর থেকেই বেশ চাঙ্গা মেজাজে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপিদের আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

গত নির্বাচনে মহাজোটের মুখ চেয়ে জাতীয় পার্টির ওইসব এমপিদের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

গাইবান্ধা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা বেগম কাকলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টি চলে যাওয়াতে আমাদের সুযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে। দল যদি প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল না করে তাহলে অবশ্যই এই আসনে নৌকা মার্কা বিজয়ী হবে।’

মহাজোটের মনোনয়নে জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান গত নির্বাচনে ওই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের দফতর সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক হিসেবে খ্যাত রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসন থেকে এবার প্রায় ২৫০ জন এমপি পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

১৪ দলের শরিকদের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং সাম্যবাদী দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জোটের আসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাজী জাফরউল্লাহ।