অপরাধ খুলনা

তেরখাদায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ : আহত ৪৫

 এম এইচ হোসেন, খুলনা থেকে:   শুক্রবার বিকালে খুলনার তেরখাদা উপজেলা সদরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ১০ জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ৪৫ জন আহত হয়েছে। ঘটনায় ২ জন পুলিশও আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় বিএনপি ও শিবিরের ৩ কর্মী পুলিশের হাতে আটক হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। বাজার ও আশপাশ এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ সংঘর্ষের পর আওয়ামীলীগ উপজেলা সদরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে শুক্রবার বিকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা তেরখাদা উপজেলা সদরে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় সেখানে বাকবিতন্ডার এক পর্যায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সংঘর্ষে ২ জন পুলিশ ও বিএনপি জামায়াতের ৪৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তেরখাদা থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাঈদুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, বিএনপি কর্মী নাহিদ মোল্লা, রবিউল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, বেল্লাল হোসেন ও আকিজুর রহমানসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে। সংঘর্ষে তেরখাদা থানার এস.আই রহিম ও কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপি কর্মী ওমর ফারুক এবং শিবির কর্মী জুবায়ের ও আব্দুস সামাদকে আটক করে। তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, মিছিল থেকে শিবিরের এক কর্মী পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এঅবস্থায় সংঘর্ষ বাধে। খুলনার পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ বলেন, জামাত-শিবিরের কর্মীরা হামলা করলে পুলিশপ্রতরোধ গড়ে তোলে। তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।