আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে বাংলাদেশ;নিউইয়র্ক টাইমস

 ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, ২১ নভেম্বর:  চলামন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের নানামুখী চাপের মুখে পড়তে পারে। এমন আশংকাই তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে। পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে এভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া, মানবাধিকার কর্মীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা এবং বিরোধী দলের সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একটি প্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। ওই সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির এক অর্থে শেখ হাসিনাকেই দায়ী করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, বছরের শুরুতেই টানা হরতালে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়ে এবং এ থেকে সৃষ্ট সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। তাতে আরও বলা হয়েছে, বিরোধী দলের কয়েকজন প্রধান নেতা এবং মানবাধিকার কর্মীদের গেফতার করা হয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং মৃত্যুদ-ও দিয়েছে। নির্বাচনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা একটি ভুল ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে তাদের অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ইসলামী দলগুলো বাংলাদেশের ভিত্তির জন্য হুমকি হতে পারে; যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছিল।
কিন্তু জামায়াতে ইসলামকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তটি এর ক্ষুব্ধ সমর্থকদের রাস্তায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে।

সম্পাদকীয়টিতে সবচেয়ে বড় সমালোচনাটি হয়েছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আদালত নিয়ে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে। মূলত বিরোধী দলকে শায়েস্তা করতেই ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিচার প্রক্রিয়া এবং সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নিউইয়র্ক টাইমস যে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে তা দেশের জন্য মোটেও ভালো সংকেত হতে পারে না। তবে পত্রিকাটি তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে মতামত দিচ্ছে কিনা তাও তলিয়ে দেখার দাবি রাখে। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের লেখালেখি বা সম্পাদকীয় একটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিতে পারে।