ঢাকা সাহিত্য

সুফিয়া কামালের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 আফিফা জামান, ঢাকা, ২০ নভেম্বর: নারীমুক্তি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মারা যান। নারী মুক্তির আন্দোলন, দেশপ্রেম ও শুদ্ধ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী মনোভাবের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করে বাংলার মানুষ। ১৯১১ সালে বরিশালের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন বেগম সুফিয়া কামাল। তিনি ছিলেন একাধারে কবি ও নারী আন্দোলনের অগ্রণী নেত্রী। ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল কঠোর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়কালে জাতীয় সকল সংকটে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক বিবেকের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন সুফিয়া কামাল। সামরিক শাসনের গণবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে, রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে, রবীন্দ্র জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের দাবিতে, দাঙ্গা প্রতিরোধে তিনি  সামাজিক গণমানুষের সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় একাধারে ছায়ানট, কচি-কাঁচার মেলা, পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংসদ প্রতিষ্ঠা ও নারী আন্দোলনের মহিলা সংগ্রাম পরিষদ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুফিয়া কামাল যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন নারীশিক্ষা অনেকটা নিষিদ্ধ ছিল। তিনি নিজ উদ্যোগে নিজেকে শিক্ষিত করেই ক্ষান্ত হননি, পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নারীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ইহজীবন অবসানের আগ পর্যন্ত সচেতনভাবে নারীর মানবাধিকার অর্জনের দাবি জানিয়ে নারী আন্দোলনকে আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-বৈষম্য-অসাম্য-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকা এবং অসহায়, দরিদ্র, নির্যাতিত নারীর শিক্ষা-কর্মসংস্থান-ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করার পথ-নির্দেশ দিয়ে গেছেন তিনি। মহীয়সী এই নারীর প্রয়াণ দিবসে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।