চট্টগ্রাম চাঁদপুর জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চাঁদপুরের ১২ টি উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন

01 শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর:  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে তারা আবার সরকার গঠন করতে পারলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, আগামীতে এই সরকার ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল, একটি করে সরকারি কলেজ এবং একটি করে কেন্দ্রীয় মসজিদ স্থাপন করে দেয়া হবে। এছাড়া জেলায় জেলায়ও একটি করে কেন্দ্রীয় মসজিদ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আ’লীগ স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ১০ কোটি মানুষ এখন মোবাইল ব্যবহার করে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ই-তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থকবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন।শেখ হাসিনা বুধবার বেলা ১২ টায় চাঁদপুরে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে যেয়ে এসব কথা বলেন। তিনি প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত
৯ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং আরো তিনটি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে চাঁদপুরের
পাঁচটি আসনই আ’লীগকে উপহার দেয়ার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, জেলা আ’লীগের সভাপতি শামছুল হক ভ’ঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, আ’লীগ নেতা সাংবাদিক শফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু ওসমান চৌধুরী, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাবু সুজিত রায় নন্দিসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে বড় পর্দার মাধ্যমে ওই ভিডিও
কনফারেন্স প্রদর্শণ করা হয়। যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় সেগুলো হচ্ছে ঃ ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকা ব্যায়ে চাঁদপুর ১৬৩ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ১শ’৩৯ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যায়ে সমাপ্ত ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা সংরক্ষণ (হাইমচর)’, ১শ’৭০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা সংরক্ষণ (চাঁদপুর)’, ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যায়ে কুমিল্লা-লালমাই-লক্ষীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কের ৮১ তম কিলোমিটারে ফরিদগঞ্জ সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৮ কোটি ৭৮ রাখ টাকা ব্যায়ে কুমিল্লা-লালমাই-লক্ষীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কের ৫৭তম কিলোমিটার
এলাকায় নির্মিত ঝমঝমিয়া ব্রিজ, ৭ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার
টাকা ব্যায়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্মিত বহুতল ভবন নির্মাণ, ৫১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণন শহীদ স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ৫
কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যায়ে চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ। এছাড়া ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ প্রস্তাবাধীন ইনষ্টিটিউট অব মেরিন টেকনলজি, ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যায়ে চাঁদপুর কোষ্ট গার্ড ষ্টেশন নির্মাণ, ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যায়ে চাঁদপুর পৌরসভার নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি ফলক উন্মোচন করা হয়।