জাতীয় রংপুর রাজনীতি

রংপুরে ৬টি আসনে আওয়ামী লীগের ২২ প্রার্থী; চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারনা

 ইকবাল হোসেন, রংপুর:  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে  আওয়ামী লীগের ২২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরপর  থেকেই তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে প্রচারনা শুরু করেছেন। এদের মধ্যে  দুজন সংসদ সদস্য এবং তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যানও রয়েছেন। এরমধ্যে  রংপুর-৩ সদর আসনে সর্বোচ্চ ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।  দলীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৭ নভেম্বর ছিল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমাদানের শেষ দিন। ওইদিন রংপুরের ৬টি আসনে ২২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরা হলেন, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান প্রামানিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম ও
দেলোয়ার হোসেন তালুকদার।রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ নেওয়াজ আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি
ডিউক চৌধুরি, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ সরকার বিটু এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম আনিছুল হক চৌধুরির স্ত্রী মেহেরুনেছা চৌধুরি। রংপুর-৩(সদর) আসনে সর্বোচ্চ ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, জেলা ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রোজি রহমান, নজমুল ইসলাম ডালিম, ফুলু সরকার এবং চৌধুরি খালেকুজ্জামান। এ আসনে জাতীয় পার্টিল চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর আসনটি ছেড়ে দিলে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন। রংপুর-৪(কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে সংসদ সদস্য টিপু মুনশি এবং
কাউনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মন্ডল মওলা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মওলা সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। শিবির তার বাম হাতের রগ কেটে দিয়েছিল। বর্তমানে তিনি জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন। এ আসনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি। প্রধানমন্ত্রী এ আসনে নির্বাচন করবেন বলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্য কেউ এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। গত নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ জয়লাভ করেন। এদিকে, মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই দলের হাই-কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন প্রার্থীরা। যাতে তাকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এসে প্রচারনাও চালিয়ে  যাচ্ছেন। প্রতিদিনই তারা এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম, এ পাড়া থেকে অন্য  পাড়ায় গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলছেন। নিজেকে প্রার্থী হিসেবে  জানান দিচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্র“তি। এব্যাপারে মোতাহার হোসেন মন্ডল মওলা জানান, দল করতে গিয়ে ১৯৯৬ সালে কারমাইকেল কলেজে জামায়াত-শিবির আমাকে ধরে নিয়ে নির্যাতনকরে আমার হাতের রগ কেটে দিয়েছে। দলের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেআমাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো হয়। এখনও আমার হাতটি অকেজো। তাই নেত্রী যদি আমাকে নির্বাচনের সুযোগ দেন তবে জয়লাভ করতে পারব ইনশাল্লাহ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এরমধ্যে পীরগাছা-কাউনিয়ায় টিপু মুনশি, মিঠাপুকুরে এইচএন আশিকুর রহমান ও পীরগঞ্জে আবুল কালাম আজাদ। বাকি তিনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।