খুলনা জাতীয় নড়াইল

সড়ক সংস্কারে সাড়ে তিনমাসের মধ্যে পানিতে গেল ১২ কোটি

11 ফরহাদ, নড়াইল প্রতিনিধি,১৯নভেম্বর:  নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা ও নড়াইল-কালিয়া সড়ক সংস্কারের সাড়ে তিনমাসের মধ্যে পানিতে গেল প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার কাজ! সংস্কারের মাত্র তিনমাস ১৬ দিনের মধ্যে দুইবার পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। গত ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর (বৃহস্পতি থেকে শনিবার) তিনদিনের বৃষ্টিতে নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা সড়কের ১৮ কিলোমিটার অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এছাড়া পাথর ও পিচ উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে দেবেও যায়। এই  সড়কের ঘোষবাড়িসহ মুলদাইড় হাফেজিয়া মাদরাসা, ডৌয়তলায় (পোস্টঅফিস), দত্তপাড়া স্কুলের সামনে, বাদশার গ্যারেজের পশ্চিমে, বুড়িখালি বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিমে, চৌগাছা ইটভাটার পশ্চিমে, লোহাগড়া টেলিফোন অফিসের কাছে, লোহাগড়া ব্রিজের ওপর, মদিনাপাড়া, কলেজ মোড়ে, পিকুলের বটতলা ব্রিজের ওপর, কালনা ইটভাটার সামনে ও কালনাঘাট এলাকায় কোথাও একটি, কোথাও দু’টি  করে গর্তের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মশাগুনি ব্র্যাক অফিস ও লোহাগড়ায় মাস্টার বাড়ির সামনে দেবে যাওয়ায় বড় বড় গর্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে (২৯ অক্টোবর)  ব্র্যাক অফিসের সামনের ভাঙ্গা সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবক  নিহত হয়েছেন। এছাড়া তালতলা বাসস্টান্ড, মুলদাইড় ব্রিজ থেকে শুরু করে মসজিদ  সংলগ্ন বটতলা, দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে রামচন্দ্রপুর, বাদশার গ্যারেজ, বুড়িখালি,  চৌগাছা বাসস্ট্যান্ড, এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ড, লোহাগড়া ফিলিং স্টেশন, লক্ষèীপাশা  চৌরাস্তা পরিবহন কাউন্টারের সামনেসহ কালনাঘাট ইটভাটার কাছে পাথর ও  পিচ উঠে গেছে। আবার কোনো স্থানে দেবে গেছে এবং ফাটল ধরেছে। এ সড়কে  নিয়মিত চলাচলকারী  হাগড়ার কুচিয়াবাড়ি গ্রামের তারিকুল ইসলাম (২৫)  বলেন, মাত্র তিনদিনের বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আগামি দিনগুলোতে এই  সড়কের (নড়াইল-লোহাগড়া) কী অবস্থা হবে! আগামি বর্ষা মওসুম পর্যন্ত টিকবে  না বলে তিনি (তারিকুল) মন্তব্য করেন। সীমাখালীর মহব্বত হোসেন জানান, কাজের  মান ভালো না হওয়ায় অল্পদিনেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। ঢাকাগামী হানিফ  পরিবহনের চালক নাজমুল বলেন, শুনেছি অনেক টাকার কাজ হয়েছে। কিন্তু কাজের  কাজ কিছুই হয়নি। রাস্তার মাঝামাঝি সাদা রঙের যে চিহৃ দেয়া হয়েছিলোও  তাও প্রায় উঠে গেছে। এই অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা সড়ক দায়সারা গোছের পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। এতে করে আবারও পিচ উঠে যাচ্ছে।  ইতোমধ্যে লোহাগড়ার মশাগুনি ব্র্যাক অফিস সামনে আবারও পিচ উঠে গেছে। এর
প্রায় দুই মাস আগেও একবার পুনঃসংস্কার করা হয়।  এদিকে, নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা বাইপাস সড়কের তিন কিলোমিটারে গাড়ির  চাকা যেন থমকে যাচ্ছে। চার-পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট  সময় লাগছে বলে যাত্রীসাধারণ জানিয়েছেন। অথচ এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে  ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, নড়াইল, যশোর, খুলনা ও বেনাপোল  রুটে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করছে।
নড়াইল-কালিয়া সড়কের অবস্থাও নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা সড়কের দশা হয়েছে। সাড়ে  ১৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার করা হলেও তা সাড়ে তিনমাসে নষ্ট হয়ে গেছে।  মাথাভাঙ্গা ব্রিজের দক্ষিণেসহ দিঘলিয়া ক্বারি সাহেবের বাড়ির সামনে, বনগ্রাম  বাজারের উত্তরে, আটলিয়া মন্টুর দোকানের সামনে, বগুড়া দিঘলিয়া বাজারের উত্তর  দিকে কয়েকটি ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এই সড়কের বিভিন্ন  স্থানে দেবে গেছে, পিচও উঠে গেছে। এছাড়া সড়কের দুইপাশে পুকুর, ডোবা ও গর্ত থাকার কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ধরেছে। কোনো কোনো স্থানে কংঙ্কিটের পিলার ও ঢালাই দেয়া হলেও ভাঙনের মুখে মাটি বা বালি না দেয়ায় তা
কোনো কাজে আসছে না। ক্রমেই সড়কের দুইপাশে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এদিকে, নড়াইল- কালিয়া সড়কের সাত কিলোমিটার বাদ রেখে সংস্কার কাজ করায় এই অংশে অত্যন্ত  ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সংস্কারবিহীন সাত কিলোমিটার সড়কে  পিচ, পাথর, খোয়া ও বালি উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো রাস্তায় কাত  হয়ে হেলেদুলে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। যাত্রীসাধারণের  জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সড়কের ভবানীপুরে সম্প্রতি যাত্রীবাহী বাস উল্টো স্কুলছাত্রসহ দু’জন নিহত হয়েছে।  সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা গেছে, ১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাবনা জেলার  ‘মেসার্স শফিক ট্রেডার্স’ গত ১০ মে নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা এবং নড়াইল-কালিয়া সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে এবং ৭ জুলাই তা শেষ করে। অভিযোগ রয়েছে,  সড়ক নির্মাণে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট পরিমাণ চওড়া ও উচ্চতা  ঠিক না রেখেই পিচ ঢালাই দেয়। নুড়ি পাথর মিশ্রিত নিুমানের পাথর, বালু ও কম বিটুমিন ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। কালিয়া উপজেলার আটলিয়া গ্রামের  হাফিজুর রহমান ও লবাব আলী জানান, সংস্কারের শুরুতে কাজের মান ভালো না হওয়ায় এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবুও কাজ ভালো হয়নি। এছাড়া সড়কের দুইপাশে ঠিকমত ঢালু না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকছে। তবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (মেসার্স শফিক ট্রেডার্স) পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ  অস্বীকার করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী
দাশ দাবি করেন কাজের মান ভালো হয়েছে। বর্ষার মওসুমে কাজ করার কারণে কোথাও  কোথাও সমস্যা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।