ঢাকা প্রযুক্তি

সহসাই ফোন গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা হচ্ছেনা

 আফিফা জামান, ঢাকা, ১৮ নভেম্বর:  বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা নীতিমালা। মোবাইল ফোন অপারেটরদের স্বার্থের কারণেই আটকে আছে কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সময়-অসময়ে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপান বা প্রমোশনাল এসএমএস, কল ড্রপ, ব্যালেন্স থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়াসহ নানাবিধ বিড়ম্বনারোধে বিটিআরসি গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিলেও তা প্রায় ভেস্তে গেছে। মোবাইল ফোন গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,  নিত্যব্যবহার্য্য পণ্য, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্যাকেজের অফার দিয়ে সময়-অসময়ে প্রচুর এসএমএস পাঠায় মোবাইল ফোন অপারেটররা।  যা কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে মোবাইল ফোনের কলড্রপ (কথা বলার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া)। আর নেটওয়ার্ক সমস্যা এতোটাই তীব্র হয়েছে যে, প্রায় সময়ই মোবাইল ফোনের  স্ক্রিনে নেটওয়ার্ক এররও দেখায়। দফায় দফায় চেষ্টা করেও মেলেনা সংযোগ। এছাড়া নিয়মবর্হিভুত ভাবে প্রায়ই ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনাতো রয়েছেই। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা জানান, গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি ১৪ টি নির্দেশনা জারির উদ্যোগ নিয়ে গ্রাহকদের মতামত আহ্বান করে বিটিআরসি। পরে গত ৩০ জানুয়ারি গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়। তখন প্রকাশিত খসড়া নীতিমালার কিছু কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলে অপারেটররা। তিনি আরো বলেন, গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষার খসড়া নীতিমালায় যেসব বিষয় রয়েছে এরমধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাকরা এবং গ্রাহকের অনুমোতি ছাড়া তথ্য প্রকাশ না করা,  প্রমোশনাল এসএমএস বা টেলিমার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্য। এসব কার্যকর হলেই কেবল  গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার দায়িত্ব বিটিআরসির। অথচ খোদ বিটিআরসিই এ বিষয়ে কোন জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আর এই সুযোগে দুর্ভল সার্ভিস দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মোবাইাল কোম্পানিগুলো।

তাদের মতে, পৃথিবির বিভিন্ন দেশেই এসএমএসের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার প্রচারণার প্রচলন রয়েছে। তবে এজন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক পথও রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কিছু অসাধু কর্মকর্তা গ্রাহকদের সব তথ্য দিয়ে দিচ্ছে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে।  আর এই তালিকা পেয়ে তারা তাদের পণ্য অনুযায়ী গ্রাহক পছন্দ করে এসএমএস পাঠাচ্ছে দেধারছে।  যা সম্পূর্ণ বে-আইনী। এক্ষেত্রে নীতিমালা থাকলে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসতো। যদিও অপারেটরগুলো বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাদে অন্য কারো কাছে তারা গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস করে না।

বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ হটনিউজকে বলেন, “গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা নীতিমালার বিষয়ে কমিশনের একাধিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি খসড়া আকারেই রয়েছে।”

তবে সকল জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই এটি নির্দেশনা আকারে জারি করা হবে বলে জানান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেছেন,“মোবাইল ফোন অপারেটরদেরকে অবশ্যই গ্রাহকদের কোয়ালিটি অফ সার্ভিস দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়গুলো নিয়ে কমিশন কাজ করছে।”