জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

এরশাদ একজন দ্বিমুখী নেতা: রিজভী

 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,হটনিউজ২৪বিডি.কম,১৮নভেম্বর,ঢাকা: এরশাদকে একজন ‘দ্বিমুখী’ নেতা আখ্যায়িত করে তার আলোচনার আহ্বানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিঙে তিনি বলেন, “এরশাদ কে? তিনি একজন দ্বিমুখী নেতা। একেক সময়ে একেক কথা বলেন। “যিনি সকালে বলেন- একতরফা নির্বাচনে গেলে মানুষ আমাকে থুথু দেবে; আবার বিকালে তিনিই তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারে নিজের দলের ৪/৬ জন মন্ত্রীকে শপথ নিতে বলেন। এই লোকটার বক্তব্য নিয়ে আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।” এর ঘণ্টাখানেক আগে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংকট নিরসনে বিএনপিকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একবার এগিয়ে এসেছেন। আসুন আমরা একসঙ্গে বসি। কথা বলি। এবার আমরা এগিয়ে যাই। আলোচনায় সরকার আন্তরিক না হলে সবাই মিলে নির্বাচন বর্জন করা হবে।” গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে  সাবেক এই সামরিক শাসক বলেন, “নির্বাচন না করলে দল থাকে না। কর্মীরা থাকে না। যদি দেখি নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে তাহলে আমরা নির্বাচন বর্জন করব।” এরপর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী বলেন, “তাকে নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। যে লোকটা ভারতের কুচবিহার থেকে আসা, যার কোনো দেশপ্রেম নেই, নীতি-নৈতিকতা নেই, যাকে এক সময় বলা হতো সিএমএলএ… দেশের মানুষ এই সিএমএলএক নিয়ে বিদ্রুপ করত- এই লোক সম্পর্কে কোনো বক্তব্য নেই। নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কথাও এ সময় স্মরণ করেন রিজভী।

সর্বদলীয় সরকারের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “একদিকে গোটা দেশে হত্যা-গুম-নিপীড়ন-নির্যাতনে শোকাচ্ছন্ন। প্রতিনিয়ত বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন পুলিশ নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটে সর্বদলীয় সরকারের মহাসমারোহ চলছে। “সরকার একদলীয় নির্বাচনের জন্য সর্বদলীয় সরকারের করতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে আমরা (বিএনপি) নেই।” রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমরা সব সময় বলে এসেছি, আলোচনা হতে হবে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্দলীয় সরকার নিয়ে। সংকট নিরসনে সংলাপ সমঝোতার জন্য আমরা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।”

রোববার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ‘কোনো কারণ ছাড়াই’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিমান্ডে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুকে ‘নির্যাতন’ করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাল কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।