অপরাধ ঢাকা শিক্ষাঙ্গন

ভিকারুননিসার ভর্তি পরীক্ষায়;আইন না মানার অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক,১৮নভেম্বর,হটনিউজ২৪বিডি.কম ঢাকা:   প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি লটারির মাধ্যমে নেয়ার আইন থাকলেও রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ তা মানছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। তারা এ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। এতে বিপাকে পড়তে হয়েছে অভিভাবকদের। ভর্তি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের তালিকা বিন্যাসেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে অভিভাবকদের। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে স্কুলটির মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ওই শাখায় অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে অপেক্ষা করছেন। স্কুলে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফরমের সঙ্গে পেনসিল-রাবার দেয়ার জন্য অভিভাবকদের মাইকে ঘোষণা করা হয়। আর কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়েন অভিভাবকরা। তখনই ছুটতে থাকেন পাশের স্টেশনারির দোকানে পেনসিল-রাবারের জন্য।স্কুলের ভর্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের দুটি সময়ে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হয়। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ওই বিজ্ঞপ্তির কোথাও লিখিত পরীক্ষা বা শিক্ষার্থীদের পেনসিল-রাবার আনার নির্দেশনা ছিল না। সাইদ আব্দুল মালিক নামের এক অভিবাবক হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার কথা উল্লেখ নেই, সেখানে সাক্ষাৎকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে আসার পর কর্তৃপক্ষ মাইকে পেনসিল-রাবার নেয়ার নির্দেশ দেয়। পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই এ ধরনের নির্দেশনা আমাদের অপ্রস্তুত করে তুলেছে। ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষা দিতে এসে ভয়ে কান্না করেছে।” বেশকিছু অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,  “আমরা জিম্মি হয়ে আছি। সাক্ষাৎকার কথা বলে এখন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। অনিয়ম দেখার বা মনিটরিং করার কেউই নেই।”

রফিক মাহমুদ নামের আরেক অভিভাবক ভর্তি তালিকা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ১৬ নভেম্বর পরীক্ষায় মূল ক্যাম্পাসের দিবা শাখার ৮নং গেইটের তালিকায় ০০০১ থেকে ০৫২০ সিরিয়াল উল্লেখ আছে। কিন্তু পরবর্তী সিরিয়াল শুরু হয়েছে ০৬০১ থেকে।  ০৫২১ থেকে ০৬০০ এই ক্রমিকগুলো গেলো কোথায়? তিনি আরো বলেন, তালিকা বিন্যাসের কোথাও এই সিরিয়াল খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভর্তি বণিজ্যে করতেই এমন ফাঁক-ফোকড় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই অভিভাবক। ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগমকে অভিভাবকদের ক্ষোভের বিষয়টি জানালে তিনি নতুন বার্তাকে বলেন, “কী উল্টা-পাল্টা লিখবেন আমার নামে। আমরা ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছি না, প্রতিবার যা করি এবারো তাই করেছি। বয়স অনুপাতে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুক বাচ্চাদের বুদ্ধিমত্তা যাচাই-বাছাই করা হয়। এটাকে কেউ যদি পরীক্ষা বলে তাহলে পরীক্ষা, কিন্তু আমরা বলি প্রাথমিক বাছাই। এই বাছাইয়ে যারা টিকবে তারাই লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।” মঞ্জু আরা বেগম ভর্তি নীতিমালা নিয়ে মাউশিকে অভিযুক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাউশি আমাদের কোন নোটিশ দেয়নি। ভর্তি নীতিমালার প্রসঙ্গে কোনো কিছুই জানায়নি। যদি কোনো নীতিমালা হয় তবে মন্ত্রণালয় তো আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতো। আমরা প্রতি বছর এই নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করি।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও ভিকারুননিসা স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি রাশেদ খান মেননের কাছে জানতে চাইলে তিনি অধ্যাক্ষের পক্ষেই সাফাই গান। তিনি বলেন, “পরীক্ষা নেয়া হয়নি, বাছাই করা হয়েছে। বাছাই ছাড়া এতো শিক্ষার্থীর আলাদা করা সম্ভব নয়।” তবে লটারিতে ভর্তি পক্রিয়া নীতিমালা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান রাশেদ খান মেনন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন ভিকারুননিসা স্কুলের বাছাইয়ের নামে লিখিত পরীক্ষাকে অনিয়ম বললেন। তিনি বলেছেন, নিয়ম না মেনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া অন্যায়। কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য এবং অভিভাবকদের হয়রানি দূর করতেই প্রথম শ্রেণীতে লটারির নিয়ম চালু করা হয়েছে। এখানে বাছাইয়ের নামে পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন । প্রসঙ্গত, গত বছরের নীতিমালায় বলা হয়েছে, আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে এন্ট্রি শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারিতে ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। শিক্ষাবর্ষ হবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আরো বলা হয়েছে, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।