অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

খালাফ হত্যা: এক জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৪ জনের

bnimg-213194-2012-12-10 নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা,১নভেম্বর:  সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির মধ্যে একজনের সর্বোচ্চ সাজার আদেশ বহাল রেখে তিনজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।রাষ্ট্রপক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন এবং আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়েছে। মো. আল আমীন, আকবর আলী লালু, রফিকুল ইসলামকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।  আর শুরু থেকেই পলাতক সেলিম চৌধুরীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে রায়ে। এ মামলার বিচারিক আদালত গত ৩০ ডিসেম্বর দেয়া রায়ে পাঁচ জনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। গতবছরের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর পুলিশ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আর সাড়ে চার মাস পর চারজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের পরিচয় দেয়া হয় ‘ছিনতাইকারী’ হিসাবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. ওবায়দুল হক গত ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়ার পর ৩১ অক্টোবর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। মামলার বিচারে আসামি আল আমীন বিচারকের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, সাইফুলসহ বাকি চারজন ওই রাতে খালাফকে ঘিরে ধরেন এবং তার কাছে ডলার চান। “ডলার না দেয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধাস্তি হয়। পরে সাইফুল তার হাতে থাকা রিভলবার দিয়ে খালাফকে গুলি করে পালিয়ে যান।” তদন্ত কর্মকর্তা এ কথাগুলো অভিযোগপত্রেও উল্লেখ করেন। তবে গ্রেপ্তার চার আসামি পরে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে। রায়ের পর আসামিরা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন।  অন্য দিকে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করতে হাই কোর্টের অনুমতি চায়। ১ অগাস্ট হাই কোর্ট এ বিষয়ে শুনানি শুরুর পর গত ৩ নভেম্বর তা শেষ হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. খোরশেদুল ইসলাম। আর কারাগারে থাকা চার আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খবীর উদ্দিন ভূঁইয়া ও আমিনুর রশিদ রাজু। পলাতক আসামি সেলিম চৌধুরীর পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবী মাহমুদা খাতুন।