অপরাধ ঢাকা রাজনীতি

অর্থপাচার মামলার রায় রোববার

আদালত প্রতিবেদক:
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে  সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা পাচারের মামলার রায় ঘোষণার জন্য রোববার (১৭ নভেম্বর) দিন ধার্য করেছে আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন  বৃহস্পতিবার  বিকেলে এ আদেশ দেন।  আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন  শেষ করেন। আসামি পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য  দিন ধার্য করেন। যুক্তিতর্কের শুনানিতে  খায়রুল ইসলাম লিটন আদালতকে বলেন, তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। মামুন কোনও টাকা বিদেশে পাচার করেননি। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে  যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা আশা করি, হয়রানিমূলক মামলা থেকে আদালত অব্যাহতি দেবেন। মামুনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, তারেককে সাজা দেয়ার জন্য এ মামলায় সরকার বরাবরের মত প্রভাব খাটিয়ে আসছে। সরকার চাচ্ছে, তারেককে সাজা দিতে। সাজা দিয়ে নির্বাচনে  অযোগ্য করার পায়তারা চলছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হয়েচে রাষ্ট্রপক্ষ। আর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, সিঙ্গাপুরে  অর্থপাচার করে তারেক ও মামুন মানি লন্ডারিং আইন ভঙ্গ করেছেন। মামুনের পাচার  করা টাকা বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই টাকা বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে  জমা রাখা আছে। আমরা আশা করি, আদালত তারেক ও মামুনকে সর্বোচ্চ সাজা দেবে।মামলার আসামি মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গত সোমবার মামুনের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন যুক্তিতর্কের শুনানিতে আদালতকে বলেনছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু হওয়া মামুনের জন্য কাল হয়েছে। কারও বন্ধু হওয়াটা দোষের কিছু না। অথচ শুধুমাত্র বন্ধু হওয়ার কারণে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন মামুন। অর্থপাচারের যে অভিযোগ এ মামলায় আনা হয়েছে তা মিথ্যা। কারণ রাষ্ট্রপক্ষে কোনও সাক্ষ্য উপাস্থপন করা হয়নি।’এরআগে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে তের জন সাক্ষ্য দেয়। উল্লেখযোগ্যরা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম, দুদকের উপ-পরিচালক তাহসিনুল হক, সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া, সোনালী ব্যাংক ক্যান্টনমেন্ট শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা বিভূতভূষণ সরকার, সোনালী ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) নজরুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক ক্যান্টনমেন্ট শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সৈয়দ এহসানুল হাফিজ, মামলাটির রেকর্ডিং অফিসার হোসনে আরা বেগম, বর্তমান ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর আলীমুজ্জামান, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন ও পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ করিম।তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম। এ মামলায় ২০১১ সালের ৬ জুলাই তারেক ও মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট মামুন ও তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।