কৃষি জাতীয় ঢাকা

আমনের ধান বাতাসে উড়িয়ে পরিষ্কার করায় ব্যাস্ত কৃষানীরা

xnobanno,P20120131115050911.jpg.pagespeed.ic.DilM0P2BU4আছাদুজ্জামান, ঢাকা, ১৫ নভেম্বর: প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মে সময়ের চাঁকা সমান্তরাল। এই চাঁকা সদাই চলমান; স্থবির হয় না, থেমে থাকে না।

সেই না থামার পালে চড়ে শস্য-শ্যামলা বসুধার বুকে ঋতু চক্রের আসে পালাবদল। তেমনি পালাবদলে ষড়ঋতুর বাংলাদেশের দ্বারে এলো  অগ্রহায়ণ। আজ শুক্রবার ১ অগ্রাহায়ণ, ১৪২০ বঙ্গাব্দ। এই মাস গ্রাম বাংলার উৎসবের মাস, সে উৎসব নবান্নের।

সবুজ বাংলায় শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয় তার মধ্যে নবান্ন অন্যতম। সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে আজ থেকে মেতে উঠবে বাংলার বিস্তীর্ন গ্রামীণ জনপদ।

‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। তার সাথে উৎসব শব্দটি যোগ হয়ে ‘নবান্ন উৎসব’ হয়ে উঠেছে এ দেশের হাজার বছরের নাড়ীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। মূলত আমন ধান কাটার পর সে ধান থেকে পাওয়া চালে প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবই নবান্নের। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব শুরু হয়।

বৈচিত্র প্রকৃতির বিচিত্র কৃষ্টির এই দেশে অঞ্চল ভেদে এই নবান্ন পালনে আছে ভিন্নতা। কোন অঞ্চলে ফসল কাটার আগে বিজোড় সংখ্যক ধানের ছড়া কেটে ঘরের চালে বেঁধে রাখা হয়। বাকি অংশ চাল করে সে চালে পায়েস রান্না করা হয়।

রবি ঠাকুরের ‘সোনার বাংলা’ ইতিমধ্যে সোনার ফসলে ভরে উঠেছে। কৃষকের মুখে ফুঁটে উঠেছে সোনালি হাসি। সোনালি শষ্য দানায় ভরে উঠেছে কৃষকের জমি। হেমন্তের হীমশিতল বাতাসে বিস্তীর্ন মাঠে মাঠে খেলা করছে সোনালি ধানের শীষ।
কৃষক-কৃষানীর কষ্টাজিত শ্রম-নিষ্টায় পাঁক ধরেছে ধানের শীষে। ভোরের কুয়াশার আমেজ নিয়ে সকাল থেকে কৃষকের চোখ ছুটে যায় ফসলি মাঠের দিকে। মনের খাতায়, হাতের আঙুলে কষতে থাকে ঘরে ফসল তোলার হিসাব-নিকাশ।

নবান্ন এলেই গ্রামীন জনপদে ধুম পড়ে পিঠা-পুলি, অনুষ্ঠান-পার্বনের। দিন দিন এই উৎসবের আমেজ গ্রামের পথ পেরিয়ে পৌঁছেছে শহরেও। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ শ্লোগানকে লালন করে ‘নবান্ন উৎসব ১৪২০’র আয়োজন করছে জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ১ মিনিটে বাঁশির সুরের মূর্ছনায় উৎসবের সূচনা করা হবে। দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনে ব্যাস্ত থাকবে নবান্নে রঙ্গিন মানুষেরা।