খুলনা জাতীয় প্রধান খবর বাগেরহাট রাজনীতি

বিএনপি জামায়াত সন্ত্রাসী দল- শেখ হাসিনা

Bagerhat PM Photo-1 (13-11-2013)H  শওকত আলী বাবু বাগেরহাট থেকে,১৩নভেম্বর:  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ সৃস্টি হয়। মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙ্গা  ,মানুষ হত্যা করা  মানুষের উপর  অত্যাচার ,নির্যাতন করা ,দূনীতি করা এটাই তাদের কাজ। তারা আজ হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। তাদের ডাকে মানুষ সাড়া দেয়না- – তার কি করে চোরা গুপ্তা হামলা চালায় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন যারা রাজনীতি করে  – – যারা জনগনকে নিয়ে রাজনীতি করে তারা চোরা গুপ্তা হামালা চালাতে পারে না। চোরাগুপ্তা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা । বিএনপি জামায়াত সন্ত্রাসী দল । তাই তারা যে বাসে মানুষ চলাচল করে , বাসের মধ্যে মানুষ বসে আছে সেখানে এসে আগুন দিয়ে দেয়। মানুষ পুড়িয়ে মারে।কোন মুসলমান মানুষ পুড়িয়ে মারতে? একজন মুসলমান কিভাবে আরেক মুসলমানকে পুড়িয়ে মারতে পারে আপনারা বলেন? শুধু তাই নয় গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেয় –  এরা কি  মানুষের জাত? এরা কিভাবে রাজনীতি করবে। এভাবে মানুষ পোড়াচ্ছে প্রতিদিন। সেখানে নারী শিশু তারাও রেহাই পাচ্ছে না। মোস্তাফিজকে পুড়িয়ে মেরেছে। শিশু সুমিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পোশাক শ্রমিক নাসিমা- গাড়ি চালক আলামিনকে পুড়ানো কমপক্ষে ৩০ জন মানুষকে তারা হত্যা করেছে। তিনি বুধবার বিকালে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিরোধী দলীয় নেত্রীকে উদেশ্য করে আরও বলেন, গত ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। সে সময় সংখ্যলঘু সম্পদায়সহ কোনো মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি। বিএনপি-জামায়াত মিলে অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম, লুটতরাজ, মানুষ খুন এবং নারী নির্যাতন চালিয়েছে। বাগেরহাটে অসংখ্য আওয়ামীলীগ নেতাকে খূন করেছে।

বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকুর সঞ্চলনায় জেলা আওয়ামীগ সভাপতি আলহাজ ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন এমপির সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক খানজাহান আলী কলেজ মাঠের বিশাল জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামন্ডলীর  অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ইলাহি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, বাগেরহাট ২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশা , বাগেরহাট ৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার তালুকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ,বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু ,নকিব নজিবুল হক নজু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খান মুজিবর রহমান, আকতারুজামান বাচ্চু জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক মীর জায়েসী আশরাফী জেমস প্রমুখ।

এরআগে  সকালে প্রধানমন্ত্রী মংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় ৫শত ৩৬ কোটি টাকা ব্যায়ে  ৫০ হাজার মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলোর ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্ধোধন শেষে হ্যলিকপ্টার যোগে রামপাল পৌছান। রামপাল শ্রীফলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষনের পূর্বে ৬ কোট ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে সুন্দরবন ডিগ্রী মহিলা কলেজের  ২শ শয্যার ছাত্রী নিবাস, ২৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যায়ে রামপাল উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ও খুলনা ১৫০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্ধোধন এবং ১ কোটি ৪০ লাখ টাকায় রামপাল  ডিগ্রী কলেজের একাডেমি ভবন, ৪কোটি ১৬ লাখ টাকায় উপজেলার মল্লিকেরবেড় সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার,  ৪ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় মংলা দিগরাজ রেজিঃ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়  কাম সাইক্লোন সেল্টার, ২কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকায় রামপাল মুক্তিযোদ্ধা  কমপ্লেক্স,  ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায় বৈদ্যমারী  বাজার সড়ক ও গার্ডার ব্রিজ,৪ কোটি ৯৬ লাখ রামপাল উপজেলা  পরিষদ কমপ্লেসের বর্ধিত ভবন, ১৬ কোটি টাকায় রামপাল ও সদর উপজেলা ৩৫/৩ পোল্ডার বাঁধের প্রতিরক্ষা কাজ, ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকায় ৩৪/২ পোল্ডারের সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, আপগ্রেডেশন আব খুলনা ১৫০ মেঘাওয়াট পিবিন পাওয়ার প্যান্ট টু ২২৫ মেঘাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দুপুরে রামপাল থেকে হেলিকপ্টার যোগে বাগেরহাট স্টেডিয়ানে অবতরনের পর সার্কিট হাউজে পৌছান।

বিকেলে বাগেরহাট শহরের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী কলেজ মাঠে লাখো জনতার উদ্যেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ই বাগেরহাট খুলনাসহ দক্ষিনাঞ্চলে  উন্নয়ন হয়। আওয়ামীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষ কিছু পায়। মংলায় ৫শত ৩৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫০ হাজার টন খাদ্য মজুদ রাখার জন্য সাইলোর নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে-  আজ মংলা বন্দরে গতিশীলতা এসেছে । মংলা বন্দুর বিএনপির আমলে বন্ধ করে দিয়েছিল  । আমরা সেই বন্দর আবার  চালু করেছি। এখন এই বন্দর দিয়ে ৪০ ভার পন্য আমদানী রপ্তানি হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী গত নির্বাচনে এ অঞ্চেলের মানুষ আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায়  তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন,দক্ষিণঞ্চলের মানুষ আবহেলিত । আপনাদের কস্ট দুর করতে ইতমধ্যে রামপালে ১৩২০ মেঘাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের কাজ শুরু করেছি। এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রও নির্মিত হলে  সমস্ত এলাকা আলোকিত হবে । এখানে শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে । এই তাপ বিদ্যুৎ বিরোধিতা করা হচ্ছে।  এই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে নানা  ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিছু মানুষ না বুঝে শুধু বিরোধিতার সার্থে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা করছেন । তাদের কেউ কেউ বলছেন এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে নাকি সুন্দরবন ধংস হয়ে যাবে । প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্যেশে বলেন আওয়ামীলীগ দেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করেনা । তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদেশ্য করে বলেন তিনি দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ না দিয়ে তার ছেলের মাধ্যমে শুধু খাম্বা দিয়েছেন। ড্যান্ডি ডাইন আর খাম্বা সোনালি ব্যাংক ,জনতা ব্যাংক  এবং বেসকারী ব্যাংক থেকে৯শ ৮০ কোটি টাকা ঝৃন নিয়ে  এক টাকাও  ফেরত দেয় নাই।  সব টাকা  মেরে দিয়েছে । খাম্বা উৎপাদন করে হাজার কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে –   বিদ্যুৎ নাই। ।

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বদলে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে বেশি ব্যস্ত থাকেন। তারা উন্নয়নের বদলে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে হরতালের নামে নিরীহ মানুষ মারছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য হরতালের নামে সাধারণ নিরীহ মানুষকে জীবন্ত পুড়ে মারছেন। আমরা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।

বিকাল ৪ টায় প্রধানমন্ত্রী খানজাহান আলী কলেজ মাঠের সভাস্থলে এসে পৌঁছেন। বিশাল জনসভা মঞ্চের পাশে পৌছে প্রথমে তিনি ২৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ইন্সিটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, বাগেরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত ১৪ কেটি টাকা ব্যায়ে খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে বাগেরহাট পৌর ভবন ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে বলেশ্বর নদীর উপর নির্মিত মীর সাখাওয়াত আলী দারু সেতুর উদ্ভোধন এবং ৯৬ কোটি টাকার মোড়লগজ্ঞ- –শরনখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক, ২ কোটি ৯১ হাজার টাকার সরকারী পিসি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা কেন্দ্র, ২ কোটি ৮১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শরনখোলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কচুয়া ডিগ্রী কলেজের একাডেমি ভরন, ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেখ হেলাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ,৬৪ লাখ টাকার রাখালগাছি দাখিল মাদ্রাসার একাডেমি ভবন, ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার কচুয়া সিএস পাইলট মডেল স্কুল ভবন,১ কোটি ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার কচুড়িয়া আর্দশ মাধ্যমিক বহুমুখী বিদ্যালয় কাম ঘূর্নিঝড় আশ্রায়ন , ২ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকার খড়িয়া বালিকা মার্ধ্যমিক কাম ঘুর্নিঝড় আশ্রয়ন কেন্দ্র, ১ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকার চাঁদেরহাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কাম ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়ন কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করেন।

খানজাহান আলী কলেজ মাছে বিশাল জনসমাবেশে জনতার মুহুর্মুহু করতালির সময়ে  প্রধানমন্ত্রী বলেন,  দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি।আগামীতে জনগণের রায়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে যেসব উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে তা সম্পন্ন করা হবে। ভেড়া মারা থেকে মংলা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নিযেছি।  তিনি বলেন আমাদের লক্ষ্য যারা ঘর বাগি হারিয়েছে তাদেরকে ঘরবাড়ি  কওে দিয়ে বাসস্থানের উন্নতি করতে চাই। একটা মানুষ ও গৃহহারা থাকবে না। সে লক্ষ নিয়ে  আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন  করে চলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন  আমি জানি বাগেরহাট খুলনার অনেক জায়গায় সুপেয় পানির অভাব। লবনাক্ত পানি। এ সুপেয় পানির জন্য আমরা ব্যবস্থা করছি। বিভিন্ন জায়গায় ওযাটার টিট্রমেন্ট প্লান্ট  বসিয়ে সেই পানি  লবানাক্ত মুক্ত করার প্রকল্প আমরা  হাতে নিযেছি। আমরা আবার ক্ষমতায় আসনে এ অঞ্চলে সুপের পানির অভার থাকবে ন্।া পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিপি  ও ভিজিডির মাধ্যমে গরীব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় , প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ শিক্ষায় বৃত্তি উপবুত্তি দিয়ে যাচ্ছি।

দুপুর হতে না হতেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিভিন্ন হাজার হাজার মানুষ খানজাহান আলী কলেজ মাঠে জড়ো হতে থাকে। খন্ড খন্ড মিছিলে শত শত নারী পুরুষ রং বেরং নৌকা নিয়ে আর  বাদ্য বাজিয়ে সভাস্থলে পৌছে যান। দুপুরেই কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় খানজাহান আলী কলেজ মাঠ। মাঠ ছাপিয়ে হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিতে থাকে।