জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

সর্বদলীয় সরকার গঠনে মন্ত্রীদের পদত্যাগ

xminister-0020131112032817.jpg.pagespeed.ic.xNJtlthbu9 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১২ নভেম্বর:  সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও মহাজোট সরকার নির্বাচনের জন্য এখন আপাতত সে পথেই হাঁটছে। আর সে লক্ষেই ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠনের প্রক্রিয়ায় এক ধাপ এগিয়ে গেল মহাজোট সরকার। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘তারিখবিহীন’ পদত্যাগপত্র তুলে দেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন আগেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়া হচ্ছে না। সর্বদলীয় সরকার গড়তে মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াতেই মন্ত্রীদের এই পদত্যাগপত্র।

সর্বদলীয় সরকারে যারা থাকবেন, তাদের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করবেন না। তাদের আর নতুন করে শপথ নেয়ারও দরকার হবে না।

আর যারা সর্বদলীয় সরকারে থাকবেন না, তাদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। পরে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সচিব জানান। সংবিধান অনুযায়ী একজন মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন অনেক নতুন মুখ। বাদ পড়তে পারেন অনেক প্রবীন নেতারা। তাদের মনোনীত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তারা স্বাক্ষরের ‘তারিখহীন’ পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে জমা দিয়েছেন।

সংবিধানমতে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার কথা। কিন্তু এই ‘তারিখহীনতা’র কারণে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগের দিন পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভা বলবৎ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৪ নভেম্বর শ্রীলঙ্কা যাবেন, ফিরবেন ১৭ নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী ফেরার পরপরই ‘নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার’ গঠন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আর এই তারিখটি হতে পারে ২০ নভেম্বর।

মহাজোট সরকারের নির্বাচিতরা ছাড়াও অন্যন্য দল থেকে নির্বাচিতদের এ মন্ত্রিসভায় আনা হবে। প্রধান বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকেও শেষ পর্যন্ত আনার চেষ্টা করা হবে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সর্বদলীয় সরকার গঠনের আগে এক মুহূর্তের জন্যও দেশ সরকারহীন অবস্থায় থাকবে না বা থাকতে পারে না। পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়ে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা নিয়মিত দাপ্তরিক ও নির্বাহী দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। এদিকে, সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা কি ধরনের কাজ করবে- সে বিষয়ে নতুন মন্ত্রিসভাই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।