আন্তর্জাতিক ঢাকা

ভবিষ্যতের জ্বালানি হবে পারমানবিক বিদ্যুত

xVVER-0120131111192014.jpg.pagespeed.ic.1xpHKetg75  আন্ত:ডেস্ক,হটনিউজ২৪বিডি.কম,  ১১ নভেম্বর:   বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিশ্বের ভবিষ্যত জ্বালানি হবে পারমানবিক বিদ্যুত। এজন্য বিশ্বকে প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই। তাদের মতে, নিরাপদ পারমানবিক জ্বালানিই পারে ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে। চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে শুরু হওয়া সম্মেলনে অংশ নিয়ে পারমানবিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এরকম মন্তব্য করেন। তিন দিনের সম্মেলন শুরু হয়েছে সোমবার। সম্মেলন শুরু হয় বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটায়।

‘প্রেশারাইজড ওয়াটার রিএ্যাক্টর‘ (রাশিয়ান ও চেক ভাষায় সংক্ষেপে ভিভিইআর) শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫০০ বিজ্ঞানী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক। রাশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান রোসাটম এবং চেক পারমানবিক সোসাইটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন চেক নিউক্লিয়ার সোসাইটির সভাপতি বাকেট ডেনস, ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার রিসার্চ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিজেক ক্যারেল এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উৎপাদন কর্মকর্তা স্টিফেনাক লেডিসলাভ। বাকেট ডেনস তার বক্তৃতায় বলেন, পিডব্লিউআর (প্রেশারাইজড ওয়াটার রিএ্যাক্টর) প্রযুক্তি সমসাময়িক বিশ্বের জন্য খুবই উপযোগী। বাংলাদেশের রূপপুরসহ ভারত ও অন্যান্য দেশে মোট ১৯ টি এ ধরনের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। পারমানবিক বিদ্যুত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করছে ১২০০ প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম। আগামি দিনগুলোতে নিরাপদ পারমানবিক বিদ্যুত সরবরাহে রোসাটম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে ইউরেনিয়াম সংরক্ষণেও সহায়তা দিচ্ছে রোসাটম। ২০১২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তার মতে, আগামি দশকে পিডব্লিউআর সবচেয়ে উপযোগী প্রযুক্তি হিসেবে স্থান পেতে যাচ্ছে।

স্টিফেনাক লেডিসলাভ বলেন, ইউরোপের ভবিষ্যত জ্বালানি হচ্ছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট। শুধু ইউরোপ নয়, সারা বিশ্বের জন্যই এখন এটা সময়ের দাবি। তবে তিনি বলেন, জাপানের ফুকুশিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিষ্ফোরণ আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভাবেই নিন্মমানের প্ল্যান্ট করা যাবে না। এদিকে রোসাটমের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউস টমিচেক রাইজিংবিডিকে বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দিকে মনোনিবেশ করা। তবে সেটা অবশ্যই ইন্টারন্যাশনাল এ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির মাধ্যমে হতে হবে। তার মতে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে প্রাথমিকভাব অনেক বেশি টাকা লাগলেও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে তা সবকিছুর চেয়ে সাশ্রয়ী।

লিউস আরো জানান, সারা বিশ্বে প্রায় ৪৩৬ টি পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প আছে। এক সময় তেল, গ্যাস, কয়লা ফুরিয়ে যাবে। বাতাস, বায়োগ্যাস কিম্বা গ্রীন এ্যানার্জি ক্ষমতা নেই ক্রমবর্ধমান বিশাল চাহিদা পূরণের। তাই আগামি দিনের জ্বালানি মানেই পারমানবিক বিদ্যুত।