অপরাধ মৌলভীবাজার সিলেট স্বাস্থ্য

হাসপাতালে বগলের টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে পিত্ত অপারেশন

DSC02826 মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:  মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এক মহিলার বগলের টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে পেট অপারেশন করেছে ডাক্তার।

হাসপাতাল সুত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউপির শাসন গ্রামের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আইরিন বেগমকে (৩০) নিয়ে ৫ নভেম্বর বগলের টিউমার অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১০ নভেম্বর সকালে বগলতলীর টিউমার অপারেশন না করে পিত্তথলির অপারেশন করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অপারেশনের তালিকায় পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে এক নম্বর লিষ্টে ছিলেন কমলগঞ্জের শ্রীনাথপুরের মৃত টুনুমনি করের স্ত্রী সুধারানি কর (৭০)। কিন্তু ১ নম্বরের স্থলে ২ নাম্বার লিষ্টে থাকা আইরিন বেগমকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠিয়ে তার পেট অপারেশন করেন চিকিৎসক সুব্রত কুমার রায়, সাখাওয়াৎ হেসেন ও ইছহাক আহমদ।

বিল্লাল হোসেন জানান তার স্ত্রী আইরিন বেগমকে ৫ নভেম্বর বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করান দুই হাতের বগলতলীতে পৃথক দুটি টিউমার অপারেশনের জন্য। কয়েক দিন হাসপাতালের বেডে থাকার পর ১০ নভেম্বর সকালে চিকিৎসক সুব্রত কুমার রায় সহ অন্যান্যরা বগলতলীর টিউমার অপারেশন না করে পিত্তথলির অপারেশন করেন। দুপুরের দিকে রোগীর জ্ঞান ফিরে আসলে তার আত্মীয় স্বজনকে জানায় তার পেটে অপারেশন করা হয়েছে। স্বামী বিল্লাল হোসেন পেটে অপারেশনের কারণ চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে নানা টালবাহানা করেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের নার্সের মাধ্যমে কয়েকটি পাথরের খন্ড পাঠান দেখার জন্য। এর পর থেকে ঐ চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে গা ঢাকা দেন।

বিল্লাল হোসেন আরো জানান তার স্ত্রীর পেটে কোন প্রকার সমস্যা কিংবা পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে এ বিষয়টি তাদের জানা নেই। তারা এ সংক্রান্ত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা কখোনও করেননি। এ বিষয়ে হাসপাতালের ত্তত্বাবধায়ক ডাঃ দিনেশ সূত্র ধর জানান ঘটনার পর ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক মোঃ  কামরুল হাসান হাসপাতালে ছুটে যান এবং অপারেশনের বিষয়টি অবগত হন।