খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি

আবার ক্ষমতায় এলে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন-প্রধানমন্ত্রী

xPM-0120131111194841.jpg.pagespeed.ic.GiePNnmeU3 খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, ১১ নভেম্বর:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা পাহাড়ের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এর জন্য যা যা করা দরকার আমাদের সরকার তাই করবে। সোমবার খাগড়াছড়ির স্টেডিয়ামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গত সরকারের সময়ে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি করেছি। এর পরের বছরেই ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্রসমর্পন করিয়েছি। এতো কম সময়ের মধ্যে কোনো দেশেই অস্ত্রসমর্পন করতে পারেনি।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা হরতাল দিয়েছে, এতে তারা কি পেয়েছে? হরতাল দিয়ে তারা মানুষ হত্যা করছে। বিএনপির দুই নীতি, একটি হচ্ছে মানুষ খুন আর অপরটি হচ্ছে দুর্নীতি। এছাড়া তারা আর কিছুই করে না।  তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলন করছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। তাদের বিচার হবেই। মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, খাগড়াছড়িতে এ সরকারের সময়ে অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জন্য উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। হেডম্যানদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দূর্গম এলাকায় রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, ঘরে ঘরে সোলারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসলে খাগড়াছড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং মানিকছড়ির সেমুতাং গ্যাসের সাহায্যে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপন করার মাধ্যমে এখানকার চাষীদের শাকসবজি এবং বিভিন্ন ফলমূল সংরক্ষণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

জনসমাবেশের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩ শ’ ২০ কোটি টাকার  ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন – খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সমাবেশ উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রণবিক্রম ত্রিপুরা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম শফি ও সহসাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী, দিঘীনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম প্রমুখ।