জাতীয় পিরোজপুর বরিশাল

পিরোজপুর-৩ আসনে নতুন প্রার্থী চায় তৃণমূল আ.লীগ ও বিএনপির

pirojpur-map আসাদুজ্জামান ,মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি:  পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শঙ্কায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ আনোয়ার হোসেনের কার্যক্রমে হতাশ দলীয় নেতা-কর্মীরা। গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে নেতা-কর্মীদের দ্বন্দ্ব প্রকট হওয়ায় তিনি জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সে কারণে এ আসনে জয়ী হতে জনপ্রিয় নতুন প্রার্থী চান উভয় দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি রফিউদ্দিন আহমেদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। রফিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ শুরু করেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খলিলুর রহমান মনোনয়ন চাইবেন। এদিকে বিএনপি ও জাতীয় পাট্টির সাবেক সাংসদ, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজীকে নিয়ে এলাকার সর্বত্র আওয়ামী লীগে যোগদানের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীয় ব্যক্তিগত এক চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

তবে সাংসদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। গত তিন বছর ধরে উপজেলার প্রতিটি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করেছি। দলের মনোনয়ন পেলে জনগণ কাজের মূল্যায়ন করে আমাকে আবারও ভোট দিবে।’

এদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ভালো ফল করার আশা করলেও প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত তৃনমূল নেতা-কর্মীরা। বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে দলের উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতাদের প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। শাহজাহান বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন (দুলাল)। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী রয়েছেন রুহুল আমিনের পক্ষে। তিনি নিজেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মাহাতাব,কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা জামাল উদ্দিন খান মিলন গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করেন, তাদের মতামত নিয়ে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দিলে আসনটি পুন:উদ্ধার করা যাবে।

রুহুল আমিন দুলাল বলেন, সাংসদ আনোয়ারের মামাতো ভাই শাহজাহান মিয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হারার পর থেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা দিয়েছে আ.লীগ। প্রতিটি মামলার আইনি লড়াই ও আন্দোলনে আমি তাদের পাশে ছিলাম, শাহজাহান মিয়া আমাদের খোঁজও নেয়নি। উল্টো তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়ে প্রশাসনকে দিয়ে আমাদের জনসভায় ১৪৪ ধারা জারি করিয়ে ছিলেন। সেকারণে দলের নেতা-কর্মীরা শাহজাহান মিয়াকে মেনে নিবে না।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইউসুফ উজ জামান বলেন, ২০০৯ সালের ৩১ জুলাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক পদে শাহজাহান মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে মাত্র তিন ভোট পেয়ে বর্তমান সভাপতি দিলওয়ার হোসেন মুন্সীর কাছে হেরে যান। এরপর তিনি বিএনপির পৃথক একটি কার্যালয় খুললে দলের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়।

সভাপতি দিলাওয়ার হোসেন মুন্সী বলেন, শাহজাহান মিয়া সুবিধাবাদী ও স্বার্থবাদী রাজনীতি করেন। তাই আমরা দলের ত্যাগী নেতা রুহুল আমিনের পক্ষ নিয়েছি।