চট্টগ্রাম জাতীয়

নোয়াখালীতে ৯দফা দাবিতে ছাত্রীদের মানববন্ধন

Noakhali News(2) 10.11.2013 কামাল হোসেন মাসুদ, নোয়াখালী প্রতিনিধি:  একমাত্র ছাত্রী হোস্টেলের বাবুর্চীর অসদাচরণ, বিবাহিত ছাত্রীদের সীট বাতিল ও হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা প্রত্যাহারসহ ৯দফা দাবিতে মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাধারণ ছাত্রীরা। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক তিনশতাধিক ছাত্রী এ কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন চলাকালীন সময় ছাত্রীদের সাথে কলেজের ছাত্রলীগের কিছু ক্যাডার দুর্বব্যহার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।   মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী একাধিক ছাত্রী হটনিউজ২৪বিডি.কম’কে জানান, নোয়াখালী সরকারি কলেজে সব বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার ছাত্রী রয়েছে। এর বিপরীতে ১০০ সীটের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা অহিদুর রহমান ওদুদ ছাত্রী নিবাস নামে একটি ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে। বর্তমানে ১০০ সীটে ২০০জনের মতো ছাত্রী থাকছে। গত দুই বছর আগে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান বিকাশ রঞ্জন দেব হোস্টেল সুপার ও কালাম নামের বাবুর্চী নিয়োগের পর থেকে ছাত্রী নিবাসের পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা মিলে ছাত্রী নিবাস থেকে বিবাহিত ছাত্রীদের বের করে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। আর এর জন্য ডাল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে আবুল কালাম বাবুর্চীকে । সে মেয়েদের সাথে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার, ইভটিজিং ও শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে আসছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে বলা হলেও কোন সুরহা হয়নি। আজ-কাল বলে বলে প্রশাসন দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করলেও সেখানে ছিলেন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই। সর্বশেষ রোববার সকালে অধ্যক্ষের কাছে ছাত্রীরা এর প্রতিকারের জন্য গেলে অধ্যক্ষ উল্টো তিন দিনের মধ্যে হোস্টেল ছেড়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেন এবং হল সুপার সহ ছাত্রলীগের ক্যাডারা তাদের সাথে অসদাচরণ করে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা হোস্টেল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার, বাবুর্চি আবুল কালামকে বহিস্কার, মহিলা হোস্টেল সুপার নিয়োগ, নিরাপত্তা জোরদার, হোস্টেলে অবস্থানরত ছাত্রীদের হোস্টেল ত্যাগে বাধ্য না করা, ইচ্ছানুযায়ী নিয়ম-নীতি তৈরি ও বাতিল করা, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানীর ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। তারা আরও অভিযোগ করেন, অসাধু কিছু শিক্ষক, ছাত্রলীগের কিছু ক্যাডার ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা মিলে ইতোমধ্যে ভর্তি নতুন ছাত্রীদের হোস্টেলে সীট বরাদ্দ দেবে বলে তাদের কাছ থেকে অধিক অর্থ নিয়ে এখন আইন করেছে বিবাহিত ছাত্রীরা হোস্টেলে থাকতে পারবে না। একাধিক শিক্ষার্থী সেলফোনে জানান, তারা মানববন্ধন শেষ করে হোস্টেলে ডুকতে চাইলে হোস্টেল সুপার, কিছু শিক্ষক ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাদের হোস্টেলে ডুকতে বাঁধা দিচ্ছে এবং তাদের হোস্টেল থেকে গাঁড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। অধ্যক্ষ স্বপন কুমার রায় এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষার্থীদের আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন । তিনি বলেন, সরকারি নিয়মের বাহিরেও প্রত্যেকটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন-কানুন রয়েছে। সে হিসেবে বিবাহীত শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে থাকতে পারবে না। হল সুপার ও বাবুর্চির অসদাচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর্যন্ত সুপার ও বাবুর্চি এখানে রয়েছে কিন্তু এতদিন কোন অভিযোগ না করে এখন করার পিছনে নিশ্চয় কোন কারণ রয়েছে। তাছাড়া ছাত্রীরা শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করে বলে উল্টো অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে রোববার সকালে তাঁর সাথে ছাত্রীরা দেখা করেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা চলছিল, এমন সময় ছাত্রীরা হোস্টেলে তালা দিয়ে মানববন্ধন করতে চলে যায়। ছাত্রীরা অভিযোগ করছেন তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলতে গেলে হোস্টেল থেকে তিনদিনের মধ্যে সকলকে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। ছাত্রীরা মানববন্ধন শেষে হেস্টেলে ডুকতে চাইলে তাদের বাঁধা দেয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।