জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

আমি শংকিত নই : খালেদা জিয়া

49879_fffffff নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১০ নভেম্বর  :  বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্যাতন, নিষ্পেষন চালিয়ে গণতান্ত্রিক অন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা। সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের বর্তমান দমন-পীড়ন ও নির্যাতনে আমি শংকিত নই। শনিবার রাতে  বিএনপি চেয়ারপারসন এর গুলশান বাসভবনে সাংবাদিক, চিকিৎসকও আইনজীবী নেতৃবৃন্দ সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ এর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আফজাল আহমদ, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজে সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস খান খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সাক্ষাৎ প্রসংগে প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ জাস্ট নিউজকে বলেন, সাক্ষাতকালে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়। সাংবাদিক ও পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ চলমান আন্দোলনে তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বেগম খালেদা জিয়া বলেন, নির্যাতন, নিষ্পেষন চালিয়ে গণতান্ত্রিক অন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। সরকার অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করেছে। এগুলো ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। নির্দলীয় সরকারের আন্দোলন জনগণের দাবি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় সরাকরের দাবি দেশের জনগণের দাবি। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি সফল করা হবে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্দলীয় সরকারের আন্দোলন সকলের। এসময় সাংবাদিকের নেতৃবৃন্দের পক্ষে চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে  কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, দেশে বর্তমানে অরাজকতা চলছে। সরকার শেষ সময়েও চাইছে নানা অজুহাতে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে। বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, বিরোধীদলের নির্দলীয় সরকারের ন্যায় সংগত দাবির সাথে সাংবাদিকসহ পেশাজীবিদের পূর্ণসমর্থন রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এ দাবিতে সাংবাদিকসমাজসহ সকল পেশাজীবি সমাজ পাশে থাকবে। এদিকে, রাত ১২ টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সদস্যরা তার গুলশানের বাসভবনে যান। এর কিছুসময় পর এ জে মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল হকসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবীও খালেদা জিয়ার বাসভবনে প্রবেশ করেন।

এর আগে বিএনপির সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউটিএবি) ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। রাত নয়টার দিকে ইউটিএবির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা বেগমের নেতৃত্বে শিক্ষকদের দলটি বিরোধীদলীয় নেতা খালেদার বাসভবনে যায়। রাত সোয়া ১০টার দিকে তাঁরা বেরিয়ে যান।

প্রতিনিধিদলের অপর চার সদস্য হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, মোর্শেদ হাসান খান, মোজাদ্দেদ আল ফেসানি এবং সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামাল আহমেদ। শিক্ষকদের প্রতিনিধিদলটি বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার বাসভবনে যান।

এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নয়াপল্টন ও গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনেও পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।