জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত ভূমিকায় নারাজ হবেন না হাসিনা !

economist হটনিউজ ডেস্ক, ৮নভেম্বর:  বাংলাদেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভূমিকা নিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে নারাজ হবেন না। শুক্রবার প্রভাবশালী বৃটিশ সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে। ‘Mutiny and revenge’ (বিদ্রোহ এবং প্রতিশোধ) শিরোনামের প্রতিবেদনটি শনিবার পত্রিকাটির ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হবে। এতে বলা হয়, ‘বিরোধী দল যদি নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। এর পরের কয়েক মাসে রাস্তায় সহিংসতার সম্ভাবনা রয়েছে। সেরকম কিছু হলে সেনাবাহিনী চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভূমিকা রাখবে। আর সেক্ষত্রে সেনাবাহিনীকে চটানোর কোনো ইচ্ছা শেখ হাসিনার নেই।’

প্রতিবেদেনটিতে বলা হয়, জানুয়ারির সম্ভাব্য সংসদ নির্বাচনের আগে বিডিআর সদস্যদের ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নাই। কারণ এতে যে আপিল করা হবে তার নিস্পত্তি হতেই কয়েক মাস লেগে যাবে, যা এ সময়ের মধ্যে শেষ হবে না। তবে ফাঁসির রায় কার্যকর করা না গেলেও বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের এ রায় শেখ হাসিনাকে অনেক বেশি ক্ষমতা দিয়েছে। এ রায় সেনাবাহিনীর সাথে শেখ হাসিনার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করে তুলবে।

ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী যখন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় তখনই বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার রায় ঘোষিত হল। এসব জরিপে জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষেও মত দিয়েছেন। শেখ হাসিনা অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, এসব জরিপে উঠে আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে জনগণের অভিমত বিএনপিকে নির্বাচন বয়কটে প্রলুব্ধ করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার দুই মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য পরীক্ষা হয়ে এসেছিল বিডিআর বিদ্রোহ। নিষ্ঠুর আর রক্তক্ষয়ী সে ঘটনায় পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলসের (সেসময়ের বিডিআর) সদর দপ্তরে ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। তাদের অনেকের লাশ ময়লা ভাগাড় এবং নগরের সুয়ারেজ লাইনে ফেলে দেয়া হয়। সেনাদের অপারেশনে পাঠানোর পরিবর্তে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তিনি আরও ধ্বংস এড়াতে পেরেছিলেন। কিন্তু সমঝোতার সিদ্ধান্তের বিপরীতে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির ব্যবস্থা করার।

প্রতিবেনটিতে মন্তব্য করা হয়, বাংলাদেশের কোন আদালতই আন্তর্জাতিক মানের নয়। মানবাধিকার গ্রুপগুলো বিডিআর বিদ্রোহের এই রায়ের বিচারিক প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে বলেও দাবি করেছে। বিচারে ৮৪৭ অভিযুক্তের মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। শতাধিক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিবিদও রয়েছেন। বিচার চলাকালেই ৭০ নিরাপত্তা হেফাজতে ৭০ জন বিডিআর সদস্যের মৃত্যু হয়।যাদের বেশির ভাগকেই বিচারববির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।