অপরাধ রাজশাহী শিক্ষাঙ্গন

প্রশাসনিক কাজে বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের বাধা

x320131027104457.jpg.pagespeed.ic.FgWsfzleFl রাবি, প্রতিনিধি,২৭অক্টোবর:  রাজশাহী, ২৭ অক্টোবর: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে বাধা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা।রোববার সকাল ৯টা থেকে হরতালের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে দুপুর ১ টার দিকে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৮ দলের ডাকা হরতাল সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গেটে জড়ো হন।পরে অধ্যাপক মুহম্মদ আজাহার আলী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার, অধ্যাপক ফজলুল হক এবং অধ্যাপক নিজামউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন বিএনপি-জামায়াতাপন্থি শিক্ষক প্রশাসনিক ভবনের গেটে অবস্থান নেন।

সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান তার কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে অবস্থানকারী শিক্ষকরা তাকে প্রবেশে বাধা প্রদান করে এবং কাজে যোগ না দিতে অনুরোধ জানান।সেসময় উপ-উপাচার্যসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তখন প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের পর বিএনপি-জামায়াতাপন্থি শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২ এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনের রাস্তা দিয়ে প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের শহীদুল্লাহ্ কলাভবন চত্বরে অবস্থান করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।হরতাল চলাকালে আগামীতেও সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আজাহার আলী বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে যে হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে তারই সমর্থনে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে অংশ না নিতে অনুরোধ করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, “প্রত্যেক দলেরই রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে। তারা কাজে অংশ নিতে বাধা দেয়ায় আমরা ভবনের সামনে অবস্থান করেছি। আমরা জোরপূর্বক কাজে কাজে অংশ নিতে পারি না।’

শিক্ষকদের দ্বারা প্রশাসনিক কাজে বাধা দেয়ার এ ঘটনা নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ ধর্মঘট করলে রাস্তায় করতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক কাজে বাধা দেয়া কাম্য নয়।”