অপরাধ জাতীয় প্রধান খবর প্রযুক্তি হটনিউজ স্পেশাল

অবৈধ ভিওআইপি অসহায় বিটিআরসি

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর:  সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও আপন গতিতেই চলছে অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসা। বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে যোগসাজশে বহাল তবিয়তে ব্যবসা পরিচালনা করছে অবৈধ কারবারীরা। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

new_voip_servers_2টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২কোটি মিনিট বৈদেশিক কল আসে। এরমধ্যে প্রায় অর্ধেক কলই আসছে অবৈধ পথে। দেশে আসা আর্ন্তজাতিক কলপ্রতি সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি মিনিট ৩ দশমিক ৪৫ সেন্ট।

সে হিসেবে প্রতি দিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির মদদে এবং অসাধু কিছু কর্মকর্তার সহযোগীতায় ভিওআপি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম কোনভাবেই কমানো যাচ্ছে না।

তাদের মতে, অবৈধ ভিওআইপি রোধ করতে না পারার আরেকটি কারণ হচ্ছে এ খাতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া। আগে দেশে আর্ন্তজাতিক কল আদান-প্রদান করতো মাত্র চারটি আইজিডব্লিউ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে) প্রতিষ্ঠান।

বর্তমান সরকার এ খাতে ব্যবসার জন্য আরো ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়। এতে ব্যবসায়িকভাবে প্রতিযোগীতায় জড়িয়ে পড়ে এই ২৯টি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান।

সূত্রমতে, প্রতিযোগীতা এমন পর্যায়ে পৌছেঁ যে, কোন কোন আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান ৩ দশমিক ৪৫ সেন্টের পরিরর্তে দেড় থেকে দুই সেন্ট করে অবৈধ পথে কল টার্মিনেশন করা শুরু করে। রাজনৈতিক বিবেচনায় এ খাতে বেশি সংখ্যাক লাইসেন্স দেয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা বিটিআরসি।

যদিও সম্প্রতি বকেয়া পাওনা ও কম মূল্যে কল টার্মিনেশন করার অপরাধে প্রায় ১০ টি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করেছে বিটিআরসি।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে জানান, ‘এ খাতে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ায় বিটিআরসির পক্ষে মনিটরিং করা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এরপরও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনাসহ নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে বিটিআরসি।’

তিনি জানান, “অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবরিত সিমকার্ডগুলো সিম বক্স ডিটেকশনে শনাক্ত করে ইউরোপভিত্তিক ভিওআইপি নিশ্চিতকারী কোম্পানি মিউচি সলিউশন। মিউচির দেয়া তালিকার পাশাপাশি বিটিআরসিও সেলফ রেজুলেশনে প্রায় ডজন খানেক লজিক ব্যবহার করে ভিওআইপিতে ব্যবরিত সিমকার্ডগুলো শনাক্ত করে তা বন্ধ করছে। কিন্তু  অবৈধ কারবারিরা কোন না কোন ভাবে আমাদের এসব লজিকগুলো বুঝে যায়। পরে তারা ফের অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করে। এভাবেই তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

এ প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার পলিসি ফেলো আবু সাইদ খান রাইজিংবিডিকে জানান, ‘অবৈধ ভিওআপি বন্ধে সবার আগে প্রয়োজন এ খাতের রেভিনিউ শেয়ারিং (রাজস্ব ভাগাভাগি) বিষয়ে পরিবর্তন আনা। এখন এ খাতে মোট ব্যবসার ৫১ দশমিক ৭৫ দশতাংশ নিয়ে নিচ্ছে বিটিআরসি। যা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে নেই। যতদিন রেভিনিউ শেয়ারিংয়ে পরিবর্তন না আসবে ততদিন অবৈধ ভিওআইপি চলবে। কোন ভাবেই এটা রোধ করা সম্ভব হবে না।’

বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস জানান, “ইতোমেধ্য আইজিডাব্লিউ নীতিমালার বেশ কিছু ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক কল টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে অবৈধ পথে কল টার্মিনেশন কমবে।”

বিটিআরসির তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বৈধপথে দেশে আসা বৈদেশিক কলের পরিমাণ ছিল গড়ে প্রতিদিন ৪ কোটি ৩০ লাখ মিনিট, ফেব্রুয়ারিতে ৪ কোটি ৪০ লাখ  ৭০ হাজার মিনিট, মার্চে ৪ কোটি ৫০ লাখ মিনিটি, জুলাই মাসে সাড়ে পাঁচ কোটি মিনিট। আর আগষ্ট মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন বৈদেশিক কল এসেছে ছয় কোটি মিনিট।