চট্টগ্রাম ধর্ম

পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন

bg20131014040801বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে সমুদ্র সৈকতে শুরু হয় একে একে  প্রতিমা বিসর্জন। তেল-সিঁদুর পরিয়ে, আর পান, মিষ্টি মুখে দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেছেন লাখো ভক্ত অনুরাগীরা। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের নানা শ্রেণি ও বর্ণের লাখো  মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।হিন্দু পঞ্জিকা মতে, এবছর সুখ ও আনন্দ নিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা দোলায় (পালকি) চড়ে মর্তে আসেন আর কৈলাসে ফিরে যাচ্ছেন গজে (হাতি) চেপে।এর আগে সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন পূজা মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাকবাহী প্রতিমা নিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে  বিজয়া শোভাযাত্রা নিয়ে পূজারী ও ভক্তরা জড়ো  হতে শুরু করেন পতেঙ্গা সৈকতে । পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও কর্ণফুলী নদীর ঘাটে গিয়ে এই শোভাযাত্রা শেষ হয়। এরপর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের পালা।শঙ্খ উলুধ্বন্নির পাশাপাশি বাদ্যের ঘণ্টা বাজিয়ে ‘জয়, দুর্গা মায়ের জয়’ বলে একের পর এক প্রতিমা ভাসিয়ে দেওয়া হয় সাগরে। বিকেল  ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৬০টির মতো  প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চলবে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত।

সোমবার মহাদশমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। এদিকে দুর্গার বিদায় উপলক্ষ্যে সকাল থেকে বিদায়ের সুর বেজে উঠে বিভিন্ন মণ্ডপে।বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০টির বেশি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক ও কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী।এদিকে বিকেল ৩টার দিকে চসিক মেয়র এম মনজুর আলম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। এসম তিনি সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছার পাশাপাশি শান্তির্পূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন দেয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।এদিকে সুন্দর ও শান্তি শৃঙ্খলার সাথে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে চসিক কর্তৃপক্ষ মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানীয় জলসহ মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করেছে।পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, শান্তিপূর্ণভাবে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সৈকত ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আনোয়ার পার্কি সমুদ্র সৈকত, দক্ষিণ কাট্রলীর রানি রাসমনি বারুনী স্নান ঘাট, কর্ণফুলী নদীর পাথরঘাটা গঙ্গাবাড়ি প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হচ্ছে।