৬ আষাঢ়, ১৪২৫, বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮, দুপুর ১:৫২
খেলা, জাতীয়, ঢাকা, প্রধান খবর, সারাদেশ এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘কঠিন পরীক্ষা’ বাংলাদেশের

এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘কঠিন পরীক্ষা’ বাংলাদেশের

Post by: সম্পাদক on জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ১০:২৮ অপরাহ্ণ in খেলা,জাতীয়,ঢাকা,প্রধান খবর,সারাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: জিম্বাবুয়ে কী সত্যি সত্যি অনেক বদলে গেছে! দলটির কোচ হিথ স্ট্রিক কিংবা অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারের বক্তব্য শুনলে তেমনই মনে হওয়ার কথা। আগেরদিনই জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার বলে দিয়েছেন, ত্রিদেশীয় সিরিজের তিনটি দলই সমান। কেউ কারো চেয়ে এগিয়ে নয়। জিম্বাবুয়েকে তিনি এগিয়ে রাখলেন গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের কারণে। কোচ হিথ স্ট্রিকও বলছেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয় তাদের মধ্যে বিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস- দুটিরই জন্ম দিয়েছে। সুতরাং, ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী আমরা।’

বোঝাই যাচ্ছে কথা-বার্তা কিংবা আচার-আচরণে একটা ‘বদলে’ যাওয়া ভাব জিম্বাবুয়ের। এই দলটিকে নিয়ে সমীহ ঝরে পড়ছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠেও। মাশরাফির হাতেই তো টানা আটটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে জিম্বাবুয়ে। ২০১৪ সালের শেষ মুহূর্তে ৫ ম্যাচে এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে ৩ ম্যাচে।
সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজের কঠিন পরীক্ষা। সোমবার দুপুর ১২টায় শুরু হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াই। পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই লড়াইকে কঠিনই ভাবছেন সবাই।

কেন জিম্বাবুয়ে এবার বাংলাদেশের কাছে কিছুটা কঠিন! জবাবটা আগেরদিনই জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ে কোচ হিথ স্ট্রিক। তিনি জানিয়েছেন, ‘জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এখন একটা পূনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক দুর যেতে হবে। তবে আমাদের হাতে এখন অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। যাদের হাত ধরে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এগিয়ে যাবে এবং তার প্রথম ধাপ হিসেবে এই ত্রিদেশীয় সিরিজই আমাদের লক্ষ্য।’

একই সঙ্গে নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবেই অভিহিত করলেন জিম্বাবুয়ে কোচ। এর অর্থ, আমাদের কিছুই হারনোর নেই। যা পাওয়া যায়, তাই অর্জন। এমন মন-মানসিকতা থাকলে ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলে সবাই। তখন, প্রতিপক্ষ দলের জন্য বিপদের কারণ হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ কারণেই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠে কিছুটা জিম্বাবুয়ে বন্দনা, ‘জিম্বাবুয়ে এখন অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে। শ্রীলঙ্কায় গিয়েও তাদের হারিয়ে এসেছে।’

বাংলাদেশ আসলে কেমন করবে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে? তার একটা ড্রেস রিহার্সাল তো হয়ে যাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সামনে তো শুধুমাত্র জিম্বাবুয়েই নয়, অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর কাম কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের শুরুটা কেমন হয় সেটা দেখতে মরিয়া সবাই। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের হঠাৎ প্রস্থান। পরিবর্তে পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাংলাদেশ, দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ার পর সাকিব-মাশরাফিরাই বা কিভাবে দলকে পরিচালনা করেন সেটাও একটা বিষয়। হাথুরুসিংহের সামনে একটা ‘অস্ফুট’ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ জয় করাটাও একটা বড় ধরনের পরীক্ষা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সত্যি সত্যি সঠিক ট্র্যাকে থাকতে পারবে তো!

মাশরাফি কিন্তু এসব কিছুকে পাত্তা দেয়ার পাত্র নন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চাপ থাকলেই বরং ভালো। চাপে ভালো ক্রিকেট খেলা হয়। মাশরাফি বলে দিয়েছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, প্রত্যেকটা সিরিজ যায় আর তখন মনে হয় পরের সিরিজে বুঝি চাপ কম থাকবে; কিন্তু আমার মনে হয়, সেটা আর হয় না। চাপ থেকেই যায়। দেশের হয়ে খেলতে নামলে আপনি যার বিপক্ষে যেখানেই খেলেন না কেন, চাপ থাকবেই। আমার কাছে মনে হয়, এটা থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো। কারণ, চাপে ভালো খেলার তাড়া ও তাগিদ বেশি থাকে। সেরা পারফরম্যান্সটাও চাপে থাকলেই বের হয়।’

এ কারণে মাশরাফি বক্তব্য, চাপের মুখে নিজেদের সামর্থ্যের ৮০ ভাগও যদি দেয়া যায় তাহলে ভালো করা সম্ভব। সে কারণেই বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার যদি ৭০ থেকে ৮০ ভাগও মাঠে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে কোনো কিছুই বাধা নয়। আশা করি সমস্যা হবে না। আমাদের নজর এখন সেখানেই।’

জিম্বাবুয়ে নিয়ে পরিকল্পনা কী, সেটা কিছুটা জানিয়েই দিলেন মাশরাফি। এ কারণে বললেন, ‘এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আমাদের ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা জিততে চাই। তবে ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্টে টিকে থাকাটা সহজ হবে না। জিম্বাবুয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এসেছে। শ্রীলঙ্কাও ভালো খেলছে। ভারতে একটি ওয়ানডে জিতেছে। সুতরাং টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আমাদেরও ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে।’

মূল কোচ না থাকার কারণে পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক এবং মাহমুদউল্লাহর ওপরই দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। তাদেরকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতাও দিয়ে দেয়া হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিন খেলে খেলে তারা বোঝেন ভালো করার জন্য কতটা কী করতে হবে। সুতরাং, ভালো করার ব্যাপারে মরিয়া বাংলাদেশ। পাঁচ সিনিয়রের সঙ্গে বাকি ৬ জুনিয়র ক্রিকেটার জ্বলে উঠতে পারলেই কেবল ঘরের মাঠে ‘ভয়ঙ্কর’ বাংলাদেশ- এই তকমাটা টিকে থাকবে।

হটনিউজ24বিডি.কম/ খেলা,জাতীয়,সারাদেশ,ঢাকা,প্রধান খবর,সারাদেশ/১৪-০১-২০১৮/সম্পাদক

হটনিউজ24বিডি.কম কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত. হটনিউজ24বিডি.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, অডিও কনটেন্ট হটনিউজ24বিডি.কম এর পূর্বানুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Comments

পাঠক আপনার মতামত দিন ।পাঠকের মন্তব্যের জন্য সম্পাদক দায়ি নন ।


comments

Comment