৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭, বিকাল ৩:২৩
আন্তর্জাতিক, জাতীয়, ঢাকা, প্রধান খবর, সাহিত্য তোপের মুখে চীন জিয়াওবোকে বিদেশে না পাঠিয়ে

তোপের মুখে চীন জিয়াওবোকে বিদেশে না পাঠিয়ে

Post by: সম্পাদক on জুলাই ১৪, ২০১৭ | ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ in আন্তর্জাতিক,জাতীয়,ঢাকা,প্রধান খবর,সাহিত্য

বিদেশ ডেস্ক: সদ্য প্রয়াত চীনা মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্ন মত পোষণকারী লিউ জিয়াওবোকে বিদেশে লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসাগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে বেইজিং। শান্তিতে নোবেলজয়ী এ লেখকের মৃত্যুতে শোক জানানোর পাশাপাশি তার মৃত্যুর জন্য চীনা সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, লিউ জিয়াওবোর স্ত্রীকে এখন গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দিতে বেইজিং-এর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। অবশ্য চীন সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিচালনাধীন এক সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব এ ঘটনাকে ‘রাজনীতিকরণের’ চেষ্টা করছে।

জিয়াওবোবৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) চীনের একটি হাসপাতালে ৬১ বছর বয়সী লিউ জিয়াওবোর জীবনাবসান হয়। চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শেনইয়াং নগরীর সরকার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। জিয়াওবো লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। শেনইয়াংয়ের ‘ব্যুরো অব জাস্টিস’ তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেছে, জিয়াওবোর কয়েকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছিল। সেকারণে তাকে আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

চীনে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য কাজ করে যাওয়া লিউ ২০১০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। চীনে আমূল রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে অন্যান্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ‘চার্টার ৮’ শীর্ষক একটি পিটিশন সই করেছিলেন লিউ। চীনে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনার আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই চার্টারে। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উস্কে দেওয়ার অভিযোগে তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল চীন সরকার। গত মাসে কারাগার থেকে শেনইয়াং এর একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

লিওকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে বেশ কিছুদিন চীনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। চীন সরকার দাবি করছিল, লিও জিয়াওবোর শারীরিক অবস্থা বিদেশে যাওয়ার অনুকূল নয়। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির বিশেষজ্ঞরা জিয়াওবোকে পরীক্ষা করার পর জানান, এ লেখক বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছেন। আর তার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠে। কিন্তু দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে লিও জিয়াওবোকে দেশেই রেখে দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছে চীনা সরকার।

লিউ জিয়াওবোর প্রয়াণকে ‘অকাল মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, চীনের পক্ষ থেকে এ লেখককে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার ব্যাপারটি ‘গভীর উদ্বেগের’।

এক বিবৃতিতে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘কেন আরও আগে লিউ জিয়াওবোর ক্যান্সার শনাক্ত করা যায়নি তা নিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং যৌক্তিকভাবে উত্তর দেওয়া এখন চীনের দায়িত্ব।’

বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন: “লিউ জিয়াওবোকে বিদেশে নিজের চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ বার বার তা অস্বীকার করেছেন। এ সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আমি এখন তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন লিউ জিয়াওবোর স্ত্রীকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।”

হটনিউজ24বিডি.কম/ আন্তর্জাতিক,জাতীয়,সারাদেশ,ঢাকা,প্রধান খবর,সাহিত্য/১৪-০৭-২০১৭/সম্পাদক

হটনিউজ24বিডি.কম কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত. হটনিউজ24বিডি.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, অডিও কনটেন্ট হটনিউজ24বিডি.কম এর পূর্বানুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Comments

পাঠক আপনার মতামত দিন ।পাঠকের মন্তব্যের জন্য সম্পাদক দায়ি নন ।


comments

Comment