জাতীয় রাজনীতি সিলেট

এ সরকারের আমলে বিচার বিভাগও ধ্বংস হয়েছে : এরশাদ

47150_55455 হবিগঞ্জ, ৪ অক্টোবর (হটনিউজ২৪বিডি.কম) :  বর্তমান সরকারের আমলে সবকিছু দলীয়করণ হয়েছে। কোনো উন্নয়ন নেই। উন্নয়ন হয়েছে দুর্নীতি ও দলীয়করণের। জনগণের আশার সর্বশেষ স্থল জুডিসিয়াল কার্যক্রমও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ শুক্রবার বিকালে হবিগঞ্জ জেলা জাপা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। এরশাদ বলেন, এ সরকারের আমলে শেয়ার কেলেংকারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ফলে নিরূপায় হয়ে তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। ৯০ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছেন। আর যারা টাকা লুটপাট করেছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে ঘুরছেন। তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর দুর্নীতির কারণে দেশ আজ কলংকিত। অথচ যে ব্যক্তি পদ্মাসেতুর টাকা চুরি করেছে তাকে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এ সরকারের আমলে চুরি করলেও দেশপ্রেমিক হওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমাকে ৬ বছর জেলে রাখা হয়েছে। মাসুম বাচ্চাসহ জেলে পাঠিয়ে মৃত্যুর মুখে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আর আল্লাহ যাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তার ক্ষতি করা যায় না। সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে অপমানিত করে পরিচালনা বোর্ডে আওয়ামী লীগের লোকজনকে বসিয়েছে। সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন এ সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জনগণের কাছে পরিচিত কথিত ‘কালোবিড়াল’কে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী বানানো হয়েছে। জনগণের টাকা খরচ করে তিনি দেশের পতাকাবাহী গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এরশাদ বলেন, আমার নয় বছরের শাসনামলে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলাম। মসজিদ-মন্দিরের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করেছিলাম। ক্ষমতা ছাড়ার পর ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম রয়েছে ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে প্রত্যেকটি সরকার মসজিদের বিল মওকুফের বিষয়টি বাতিল করে। জাতীয় পার্টি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে মসজিদ-মন্দিরের বিদ্যুৎ বিল আবারও মওকুফ করা হবে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ মঞ্চের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে নবীজীর অবমাননা করা হয়েছে। আর এর প্রতিবাদ করায় হেফাজতের সমাবেশে দেড় লাখ গুলি ছুঁড়া হয়েছে। জনগণ যাতে বুঝতে না পারে এজন্য ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি দিয়ে রাজপথ থেকে রক্তের দাগ মুছে ফেলা হয়েছে। অথচ সরকার বলছে, কেউ মরেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আন্দোলনের মাধ্যমেই এ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। অথচ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চাচ্ছে না। কারণ, তারা জানে নির্বাচনে গেলে জয়ী হওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন মহাজোটের প্রধান শরিক দলটির চেয়ারম্যান। এজন্য আগামীতে বিএনপিসহ সকল দল নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দেন।তিনি সরকারকে নতুন নির্বাচন পদ্ধতির পরামর্শ দিয়ে বলেন, ব্যক্তির নামে ভোট নয়, দলের নামে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আনুপাতিক হারে ভোটের ব্যবস্থা করা হলে নির্বাচনে সন্ত্রাস, হানাহানি, টাকার খেলা বন্ধ হবে। যোগ্য প্রতিনিধি সংসদে আসতে পারবে। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সংখ্যালঘু থেকেও কমপক্ষে ৩০ জন সদস্য সংসদে আসতে পারবে। যে দল শতভাগ ভোট পাবে তাদের ৩০০টি, ৪০ ভাগ পেলে ১২০টি এবং ৩০ ভাগ ভোট পেলে তাদের ৯০টি আসন দিতে হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সমালোচনা করে এ সাবেক সেনা প্রধান বলেন, আগে আমি ৫টি আসনে নির্বাচন করতাম। আমার ভয়ে একজন ৩টির অধিক আসনে নির্বাচন করতে না পারার আইন করা হয়। তিনি হবিগঞ্জকে তার দ্বিতীয় বাড়ি উল্লেখ করে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, সম্ভব হলে আগামীতে এ আসনে হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) নির্বাচন করবো। আর না পারলে, আতিক (জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী) আমার ছোট ভাই, তাকে নির্বাচিত করবেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজ জাফর আহমেদ বলেন, পদ্মাসেতুর নামে দেশে ভানুমতির খেলা হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে সীমান্তে বাংলাদেশীদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীর মতো বালিকাকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাই এসব বন্ধ করতে জাপার বিকল্প নেই। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রহুল আমীন হাওলাদার বলেন, আমরা আর দেশে লাশ দেখতে চাই না, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অনেক মায়ের কোল খালি করেছে। তিনি বলেন, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় পার্টি ও অগ্রগতির চাকা চালু করতে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের বিকল্প নেই। জেলা জাপা সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভা পরিচালনায় ছিলেন জেলা জাপা সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন বাবলু, নবাব আলী আব্বাস খান এমপি ও মাহমুদ হাসান মহালদার।