আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রযুক্তি

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মানুষই দায়ী: আইপিসিসি

 6নিউজ ডেস্ক, হটনিউজ২৪বিডি.কম:  ১৯৫০ সালের পর থেকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর জলবায়ু যেভাবে বদলে গেছে তার জন্য মানুষই দায়ী বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গত ৫০ বছরে মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সবুজ এই গ্রহটি কীভাবে ক্রমশ প্রাণীর বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছে, তার বিস্তারিত উঠে এসেছে জাতিসংঘ সমর্থিত আন্তসরকার সংস্থা ‘ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (আইপিসিসি) এর প্রতিবেদনে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৫টি দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের পর শুক্রবার এই প্রতিবেদনের প্রথম কিস্তির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মনুষ্যসৃষ্ট কারণেই যে বিশ্বের জলবায়ু উষ্ণ হয়ে উঠছে- সে বিষয়ে শতকার ৯৫ ভাগ নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভূ-পৃষ্ঠ, সাগর, কিংবা বায়মুণ্ডল- সব ক্ষেত্রেই এর নমুনা স্পষ্ট। বিস্তারিত ভৌত প্রমাণসহ এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে আইপিসিসির প্রতিবেদনে। প্যানেল বলছে, গত ১৫ বছরে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ যে মাত্রায় কমানো গেছে, উষ্ণতা বৃদ্ধি নিরাপদ মাত্রায় ঠেকানোর জন্য তা একেবারেই অপ্রতুল। উষ্ণায়নের মাত্রা কমাতে হলে কার্বন গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন তা অব্যাহত রাখতে হবে। ৩৬ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপে আইপিসিসি বলছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে জলবায়ুতে যে পরিবর্তন পৃথিবীর মানুষ দেখেছে, তার আগে হাজার বছরেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত তিন দশকে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাত্রা ১৮৫০ সালের পর থেকে যে কোনো দশকের তুলনায় অনেক বেশি। আইপিসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপের কো চেয়ার কিন দাহে বলেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রপৃষ্ঠ ক্রমাগত উষ্ণ হয়ে উঠছে। বরফ গলে যাচ্ছে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে বাড়ছে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ। আর ১৯৫০ সালের পর থেকে যে মাত্রায় উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি কারণের জন্য সরাসরি মানুষই দায়ী।” ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে দীর্ঘকালীন সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। বলা হয়েছিল, তাপমাত্রা এর বেশি বেড়ে গেলে পৃথিবীর পরিবেশে বিপজ্জনক পরিবর্তন দেখা দেবে।তবে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ সেন্টিগ্রেডের নিচে ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইপিসিসি’র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর জ্য প্যাসকেল ভ্যান পার্সেলি।