জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আসছে আজ

Power-L20130927035927   নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর: রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে লোডশেডিং। এছাড়াও সারা দেশেই লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় মানুষের জীবন যাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। লোডশেডিংয়ের এই বিড়ম্বনা দূর করতে ভারতের সরকারি খাত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দেশের জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু হচ্ছে শুক্রবার। প্রথমদিনে শুরু হবে ৫০ মেগাওয়াট দিয়ে। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালিত হবে। পরে পর্যায়ক্রমে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গ্রিড উপকেন্দ্রে গিয়ে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলন করে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। দুই দেশের মধ্যে ২৫ বছরের জন্য ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হওয়ার প্রায় ১০ দিন আগে থেকে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। রাজধানীতে দিনের বেলা এলাকাভেদে চার-পাঁচবার লোডশেডিং হচ্ছে। রাতে হচ্ছে আরও দু-তিনবার। গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রামের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সেখানকার অবস্থা আরও খারাপ। খুলনা, বরিশাল, বগুড়া, দিনাজপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যাপক লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। সরকারি সূত্রগুলো জানায়, হঠাৎ লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া। প্রথমত, রমজান মাসের পর সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতি পড়েছে। দ্বিতীয়ত, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্রের চারটি কূপ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখায় ঘাটতি আরও বেড়েছে। সূত্রগুলো জানায়, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হলেও তা এই লোডশেডিং কমাতে তেমন কাজে আসবে না। কারণ, গ্যাসস্বল্পতার কারণে চাহিদার তুলনায় অন্তত দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। আর ভারত থেকে পর্যায়ক্রমে বেড়ে ২৫০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে লেগে যাবে অক্টোবরের প্রায় পুরোটাই। এ বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আলমগীর হোসেন জানালেন, আজ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরীক্ষামূলক হিসেবেই ধরা হবে। যদিও ওই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসবে এবং গ্রাহকেরা তা ব্যবহারও করবেন এই সময়ের মধ্যে গ্রিড উপকেন্দ্রের সামান্য কিছু অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে। ১ অক্টোবর ‘জিরো আওয়ার’ (৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা) থেকে বাণিজ্যিক সরবরাহ হিসেবে ধরা হবে।

সূত্রগুলো জানায়, ভারতের সরকারি-বেসরকারি খাত মিলে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে নভেম্বরে। এর প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে গড়ে প্রায় ছয় টাকা, যা বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের প্রায় সমান।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। ২০১২ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি টাওয়ার তৈরির জায়গা পেতে দেরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এই বিদ্যুৎ আমদানির মধ্য দিয়ে সার্ক বিদ্যুৎ গ্রিড চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।