ঢাকা হটনিউজ স্পেশাল

বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে স্ত্রীকে তালাকের চেষ্টা

হটনিউজ ডেস্ক:

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় লিখন সাকসেনা নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত লিখন সাকসেনা ৪০তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশিদের আদালত শুনানি শেষে লিখন সাকসেনাকে কারাগারে পাঠায়।

ভুক্তভোগী স্ত্রীর অভিযোগ- শুরুতে যৌতুকের দাবিতে মারধর করা হলেও বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে লিখন সাকসেনা তাকে তালাক দেওয়ার চেষ্টা করে।

পরে বাধ্য হয়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। লিখন সাকসেনাসহ এই মামলায় আসামি চারজন। বাকি তিনজন হলেন- সাকসেনার বাবা হুমায়ূন কবীর, মা শিউলী শ্রাবনী ও ভাই হৃদয় সাকসেনা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ মোরশেদ আলী। তিনি বলেন, আসামি সাকসেনাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে গত ১৪ মে ঢাকার লালবাগ থানায় সাকসেনার স্ত্রী বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৪ জুন জবি শিক্ষার্থী লিখন সাকসেনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মামলার বাদী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সাকসেনা। এমনকি যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরও করতে থাকেন সাকসেনা।

পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার সাকসেনাকে দুই লাখ টাকা যৌতুকও দেন। কিন্তু পরবর্তীকালে লিখন ৪০তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করতে চান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে যৌতুকের টাকা আদায়ের জন্য নির্যাতনে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও সাকসেনার স্ত্রী বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য লিখন বিভিন্ন সময়ে আমাকে চড়-থাপ্পড়সহ নানাভাবে মারধর করে আসছিল। আমাকে রেখে অন্য মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমি সবকিছু সহ্য করে দুই লাখ টাকা দিই। তবে এখন সে বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আমাকে আর চায় না। সে আমাকে তালাক দিয়ে অন্য কোনো বড়লোক মেয়েকে বিয়ে করতে চায়। আমি মীমাংসাতে গিয়েও পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। আমি এর বিচার চাই।