অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় রংপুর

পাটের বাম্পার ফলন কৃষকরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্ত থেকে বঞ্চিত

Vt-5 ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রামঃ  কুড়িগ্রামে পাটের বাম্বার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণ প্রতি (৪০কেজি) ২শ টাকা কমে গেছে। জেলায় ৩টি সরকারী পাট ক্রয় কেন্দ্র থাকলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পাট কিনতে পারছে না তারা। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও কম দামে বাজারে পাট বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে ফড়িয়া, দালাল ও স্বাত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। তারা কুড়িগ্রাম থেকে কম মূল্যে পাট কিনে নারায়নগঞ্জ, পাবনা, কাশিনাথপুর, সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য স্থানে চড়া মূল্যে পাট বিক্রি করে অধিক মুনাফা লুটচ্ছে। এই সব পাট প্রতিদিন ট্রাক ও নৌকা যোগে রপ্তানি করা হচ্ছে। ওই সব ব্যবসায়ীরা পাট বিক্রি করে লাভবান হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এ অবস্থায় আগামীতে কৃষকরা পাট চাষে অনিহা করতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

অনুকুল আবহাওয়া থাকায় কুড়িগ্রামে পাটের চাষ ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২লাখ ৮৭ হাজার ৬শ ৬৩ বেল। যা লক্ষ্যে মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু কৃষকদের ভাগ্যে ন্যায্য মূল্য মিলছে না। পাট চাষীরা সরকার নির্ধারিত মূল্য কিংবা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারছেন না। যার ফলে অধিকাংশ পাট ফড়িয়া, দালাল ও স্বত্বভোগীদের গুদামে চলে যাচ্ছে।

অপরদিকে সরকারী পাট ক্রয় কেন্দ্রগুলো বিগত বছরের ক্রয় কৃত পাটের মূল্য এখন পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেনি। সরকারী ৩টি পাট ক্রয় কেন্দ্রে কোটি টাকার উর্দ্ধে বকেয়া পড়ে রয়েছে। সরকারী পাট ক্রয় কেন্দ্রগুলো নতুন করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় চলতি বছর নতুন করে ক্রয় করেই ক্রয় বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারন কৃষকরা। কুড়িগ্রাম সদরের পাট চাষী আমিনুল ইসলম ও মতিয়ার রহমান জানান, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবারে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ করেছি। কিন্তু প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ই তুলতে পারছেন না তারা। পাটকাঠি বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হচ্ছে। কুড়িগ্রামে প্রতিমন পাটকাঠি ৩শ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। উল্লেখ্য কুড়িগ্রামে পাটকাঠির চাহিদা আনেক বেড়ে গেছে। পাটকাঠি দিয়ে সীমানা প্রাচীরের বেড়া ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলার উলিপুর, দূর্গাপুর, কাঁঠালবাড়ী, যাত্রপুর, পাটেরশ্বরী, নাগেশ্বরী, ভিতরবন্দসহ প্রতিটি হাটে প্রকার ভেদে প্রতিমণ পাট ৮শ থেকে ১২শ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। এক সপ্তাহ অগে যে পাট ১ হাজার থেকে ১৪শ টাকা দরে কেনা বেচা হয়েছে। অবশ্য যা গত বছরের চেয়ে অর্ধেক মূল্য পাট চাষী পরের বাবু জানান, প্রতিটি পর্যায়ে পাট উপৎপাদন ব্যায্য বেড়ে যাওয়ায় একর প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে কৃষকদের। দি ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিমিটেডের কুড়িগ্রামের ম্যানেজার এস এম ছালাউদ্দিন জানান, গত বছরের বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রতিশ্র“তি দিয়ে নতুন করে পাট ক্রয় শুরু করলেও এখন পর্যন্ত বকেয়া টাকা এবং নতুন করে ক্রয় করা পাটের টাকা কোনটাই পরিশোধ করতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। ফলে আমাকে বিপাকের পড়তে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক প্রতীপ কুমার মন্ডল জানান, পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যপারে গুনগত মানের দিকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষদের পাটের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ অঞ্চলে কৃষকেরা পাটের ন্যায্য মূল্য পেত বলে পাট চাষীরা মনে করেন।