আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

আগামি নির্বাচন গণতন্ত্রকে টেকসই করবে-প্রধানমন্ত্রী

PM-0220130924230727  ডেস্ক রিপোর্ট ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর:  মহাসচিব বান কি মুনের উদ্বোধনী ভাষণের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৬৮তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত সোমবার নিউইয়র্ক পৌছেন তিনি। এ সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক শাসনকে আরো টেকসই করবে। এই দিন দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া সাউথ সাউথ পুরস্কারটি দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, `আমাদের সংবিধান সমুন্নত রেখে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।`

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের প্রেসব্রিফিং করেন। তারা জানান দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া সাউথ-সাউথ পুরস্কারটি দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে দি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের (আইওএসএসসি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নিউজ অ্যাম্বাসাডর ফ্রান্সিস লরেঞ্জো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `এ পুরস্কার আমাদের দেশের জনগণ ও বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্বীকৃতি। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলো- যারা দারিদ্র্য বিমোচনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার গ্রহণ করে আমি গর্বিত।` পুরস্কারটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী এ দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `দারিদ্র্যবিরোধী লড়াই বিশেষ করে ২০১৫ সাল নাগাদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আরো কঠোর ভূমিকা পালনে এ পুরস্কার বাংলাদেশকে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উন্নয়নে যেসব লক্ষ্য ঠিক করা আছে তা অর্জনে সমভাবে নিরলস কাজ করতেও এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।` এসব কাজে সমর্থন দেওয়া ও অংশীদার হওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এদিন মার্কিন কংগ্রেসম্যান পিটার কিংয়ের সঙ্গে পৃথকভাবে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বৈঠকে পিটার কিং দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জেনারেল সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) স্থগিতজনিত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বৈঠকে তিনি আরো বলেন, `আমি আশা করি জিএসপি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অন্যথায় এই ইস্যু বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরের ক্ষতি করবে। এ সময় লং আইল্যান্ডের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মন্তব্য করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখন বাংলাদেশের জন্য কোনো ইস্যু নয়।

বৈঠকগুলোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ উজ জামান ও পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন।