জাতীয় ঢাকা

বারইপটল, ফুলদহেরপাড় গণ হত্যা দিবস

Jamalpur Pic--1 এম.এফ.এ মাকাম , ২৫ সেপ্টম্বর:  ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরের সবচাইতে বর্বরতম, বেদনাদায়ক সরিষাবাড়ির উপজেলার বারইপটল-ফুলদহেরপাড়া গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে পাকহানাদার বাহিনী নৃশংস গণ হত্যা চালিয়ে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বারইপটল, ফুলদহেরপাড়, মেদুর ও বাগাছড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫০/৬০জন নারী-পুুরুষ ও শিশুদের হত্যা করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ সেপ্টম্বর দিন ছিল শনিবার। তৎকালিন মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার হুমায়ূন বাঙ্গালের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা ১১নং সেক্টরের বর্ডার থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুধায় ক্লান্ত হয়ে সরিষাবাড়ির পিংনা ইউনিয়নের বারইপটল বাজারে বিশ্রাম ও খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে স্থানীয় রাজাকার আলবদরেরা গোপনে পাকসেনাদের খবর দেয়। তারপর পাকসেনারা সুকৌশলে তিন দিক থেকে আক্রমন করলে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কিন্তু সে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মেশিন গানটি বিকল হওয়ার সুযোগে পাকবাহিনীরা নরকীয় তান্ডব চালিয়ে ১২জন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫০/৬০জন নারী-পুরুষ-শিশুদের হত্যা করে । শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত না হয়ে বর্বরতম হত্যাষজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাটও করে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা। পাকবাহিনী চলে যাওয়ার পর গ্রামবাসী ফিরে তাড়াহুড়ো করে একেক কবরে কয়েজন করে শহীদদের দাফন করে। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও সরিষাবাড়ির পিংনা ইউনিয়নের বারইপটল- ফুলদহেরপাড়া ১৯৭১’র এই দুটি জনপদে পাক হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় এই এলাকাকে বিশেষভাবে চিহিৃত করেছে। স্বাধীনতার পর বিগত ৪১ বছরেও অযতœ অবহেলা ও উদাসিনতায় শিকার হয়ে শহীদদের গণ কবরগুলি বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে । দীর্ঘ দিন পর ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর ব্যাক্তি উদ্যোগে নৃশংসতম গণহত্যার স্মরণে স্মারক¯ম্ভ¢ ও স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয় ।

শহীদদের গণকবরগুলি চিহিৃতকরণ ও সংরক্ষনের লক্ষ্যে বারইপটল ফুলদহের পাড়ের মানুষ ৭১’র এই শহীদদেরকে ভালোবেসে ও শ্রদ্ধায় গণকবরের ওই স্থানকে নাম রেখেছে শহীদ নগর। বর্তমানে এই ্এলাকাটি এ্খন শহীদ নগর নামেই পরিচিত। সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের ফুলদহেরপাড়া ও বারইপটল গ্রামে ইতিহাসের নৃসংশতম হত্যাকান্ডে গনহত্যায় জীবনদানকারী শহীদদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে থাকা কবরগুলি যথযথ ভাবে সংরক্ষন করে নতুন প্রজন্মের কাছে সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলেধরার ব্যবস্থা করবে এমনটাই প্রত্যাশা জামালপুরের মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল সচেতন মহলের।