অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

আইএমএফ চাপে বিবি’র এমওইউ এ সপ্তাহে

 Bangladesh-bank-sm20130922090706আফিফা জামান, হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:  চলতি সপ্তাহেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সংশোধিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাওয়া মোতাবেক ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকের সঙ্গে পুনরায় এমওইউ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে। তাই যেকোন দিনই সময় নির্ধারণ করে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডায়াগনস্টিক প্রতিবেদন আমলে নিয়েএ এমওইউ সই হচ্ছে। বছরের বাকি সময়ের জন্য যা প্রযোজ্য হবে।

সূত্র জানায়, রোববার থেকেই আইএমএফ মিশন চিফ রড রিগোর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছে। তারা আগামী দুই সপ্তাহ ঢাকায় থাকবেন। তাদের ঢাকা অবস্থান কালেই চুক্তি হচ্ছে। চুক্তিতে কোন হেরফের লক্ষ্য করলে আইএমএফ তাদের বর্ধিত ঋণ সুবিধার তহবিল ছাড় বন্ধ করে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তারা রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে প্রতি বছরই এমওইউ সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গেও অর্থবছর হিসাবে এমওইউ করা হয়।

এরসঙ্গে এবারই প্রথম সংযোগ হয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংক লিমিটেড। চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন শর্ত মেনে ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কিন্তু এবারই প্রথম দ্বিতীয় বারের মতো চুক্তি করতে হচ্ছে। এর আগে এমনটি আর করতে হয়নি। ২০১২ সালের ডিসেম্বর ভিত্তিতে চার ব্যাংকের ডায়াগনস্টিক প্রতিবেদন তৈরি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক এবং অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের পরিস্থিতিকে কনসিডারেবল বা বিবেচনাযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

যদিও বর্তমান সময়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ে জুনে এসব ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নয় আইএমএফ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, নতুন এমওইউতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সব শাখাকে নেটওয়ার্কের আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনার শর্ত দেয়া হবে। পাশাপাশি লিখিত ঋণ নীতিমালা ও তা পরিপালনের শর্তও থাকবে। এছাড়া সময়ে সময়ে এ ঋণ নীতিমালা হালনাগাদ করতে হবে ও মেনে চলার তথ্য পাঠাতে হবে। সর্বোপরি ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সঠিক সময়ে সম্পন্ন করে বহিঃনিরীক্ষক দিয়ে তিন মাসের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। এতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ছয় মাস পর্যন্ত করতে পারে।

কিন্তু সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক ছয় মাসেও প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেনি। এ কারণেই নতুন করে এসব শর্ত বেঁধে দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা হটনিউজকে বলেন, আইএমএফের পরামর্শ মেনেই নতুন করে এমওইউ সই হতে যাচ্ছে। যা চলতি সপ্তাহেই হতে পারে।