চট্টগ্রাম জাতীয় প্রধান খবর বিনোদন সারাদেশ

পক্ষীশালা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Hasina-22220130922000933জেলা প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর: পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা বন বিটের সবুজ বনাঞ্চল এলাকায় দেশের প্রথম ও একমাত্র অ্যাভিয়ারি এন্ড রিক্রিয়েশন পার্কের (পক্ষীশালা ও বিনোদন কেন্দ্র) আগামী ৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুবিশাল ব্যতিক্রমী বিনোদন, প্রকৃতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণমুলক পার্কের উদ্বোধন করবেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের সবুজ পাহাড় এলাকা ঘিরে দেশের দীর্ঘতম দুই কিলোমিটার ক্যাবল কার স্থাপন হতে যাচ্ছে এই পার্কে। একটি ভারতীয় কোম্পানীর তত্ত্বাবধানে পার্কে ক্যাবল কার স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। পার্কটির নামকরণ করা হয়েছে শেখ রাসের অ্যাভিয়ারী এন্ড রিক্রিয়েশন পার্ক। প্রকল্পটি সরাসরি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ।

এদিকে ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাঙ্গুনিয়ার অ্যাভিয়ারী এন্ড রিক্রিয়েশন পার্কের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে পার্কের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে রাতদিন কাজ করছে বন বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শত শত শ্রমিক ও ঠিকাদাররা।

শনিবার বিকেলে দেশের প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী পার্কের সমাপ্তি পর্যায়ের কাজ দেখতে পুরো পার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রধান বন সংরক্ষক পার্কের অবকাঠামো, ক্যাবল কার, রোপওয়ে, লেক, বন্যপ্রাণী ও পক্ষীকুলের আবাসস্থল, বনায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন অতিদ্রুততম সময়ের মধ্যে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক আলী আকবর, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের বন সংরক্ষক রিজাউল শিকদার, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জাফর আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা ও পার্কের প্রকল্প পরিচালক বখতেয়ার নুর সিদ্দিকী, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ নিশাদ, উত্তর বন ব্ভিাগীয় কর্মকর্তা মোঃ কায়চার, ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল সরকার, পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এনায়েতুর রহিম প্রমুখ।

পরিদর্শনকালে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী এই প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশে প্রথম ও এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় এই অ্যাভিয়ারী পার্ক। পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পার্কটি নির্মিত হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মত পার্কের ভেতরে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবলকার স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া পার্ক এলাকায় কৃত্রিম লেক তৈরিসহ, পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করেছে বন বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের পর এই অ্যাভিয়ারী পার্কটিই হবে দেশের বৃহত্তম, সর্বাধুনিক, ব্যতিক্রমী ও আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র। এই পার্কটি দেশি-বিদেশী পর্যটক আকর্ষনে সক্ষম হবে।

পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা বখতেয়ার নুর সিদ্দিকী জানান. চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কোদালা বন বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৫‘শ একর বনভুমিতে দেশের প্রথম অ্যাভিয়ারি এন্ড রিক্রিয়েশন পার্ক গড়ার পরিকল্পনা গ্রহন করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়।

সারা বিশ্বের মধ্যে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে এ ধরনের অ্যাভিয়ারি এন্ড রিক্রিয়েশন পার্ক। রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রায় ২৯ কোটি ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

বন কর্মকর্তা বখতেয়ার নুর সিদ্দিকী আরও জানান, এই অ্যাভিয়ারী পার্ক প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মানের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কৃতিম লেকে পানির সংস্থান এবং ক্যাবল কার সচল করার যাবতীয় কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগেই সম্পন্ন করা হবে।

সরাসরি কাজ তদারকি করছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বখতেয়ার নুর সিদ্দিকী ও সহকারী বন সংরক্ষক কৃষ্ণ পদ সাহা। এ ছাড়া পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ব্যক্তিগতভাবে পার্কের সৌন্দর্য্য ও কাজের অগ্রগতির খোঁজ নিচ্ছেন সার্বক্ষনিক।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, পাখীদের অভয়ারন্য তৈরী, জীববৈচিত্র ও পরিবেশ সংরক্ষন এবং এ অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বন ও বৃক্ষ উজার প্রতিরোধের পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে দেশের একমাত্র অ্যাভিয়ারী পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়।

বাংলাদেশে এই প্রথম দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার স্থাপন করা হচ্ছে এই পার্কে। দীর্ঘ ক্যাবল কার ও পাখিদের ব্যতিক্রমী অভয়ারন্য দেখার জন্য দেশের বাইরে থেকেও পর্যটকরা এই পার্কে আকৃষ্ট হবে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক কৃষ্ণপদ সাহা জানান, দেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত এটি এমন একটি পার্ক যেখানে শুধুমাত্র পাখি ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষনের জন্য একটি অভয়ারন্যভিত্তিক বৃক্ষ আচ্ছাদিত সবুজ পাহাড়ি বনে হাজার হাজার বুনো পাখি উড়ে বেড়াবে। তাদের কলতানে মুখরিত হবে সবুজ বন। আর বুনো পথে ঘুড়ে বেড়াবে বিনোদন প্রেমী মানুষ।

আকাশ পথে ক্যাবল কারে চড়ে দেখতে পারবে নিচের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। এটি হবে দেশের ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক, অত্যাধুনিক এবং আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র। কোদালা বনবিটের ২১০ হেক্টর বনভুমিতে পার্ক এলাকার ব্যাপ্তি।
পার্কের অভ্যান্তরে অন্যান্য বৃক্ষের পাশাপাশি বট, অশ্বথ, পাকুর, আমলকি, ডুমুর, ইত্যাদি পাখি খাদ্য ও বিভিন্ন ফল ফলাদির বৃক্ষচারা বনায়নে বাগান সৃজন ও পাখিকুলের প্রাকৃতিক খাদ্যের ব্যবস্থার মাধ্যমে পাখিদের অভয়রণ্যর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।