চট্টগ্রাম জাতীয় প্রধান খবর শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামো সমস্যায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ

Rangamati-Collage-120130918221828 ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট,রাঙামাটি, হটনিউজ২৪বিডি.কম:  রাঙামাটিসহ তিন জেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্সে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে হতাশা নেমে এসেছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো সমস্যা এবং হোস্টেলের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা কাঙ্ক্ষিতমানের অধ্যয়নে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
অনার্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় ছাত্রছাত্রীরা তাদের পাঠ্যক্রমের খুব সামান্যই অবগত হতে পারছে। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ব্যাপারে হতাশ অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এদিকে শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়ে মাসে মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষকদের মাধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে।

প্রায় অর্ধশতাব্দীর প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠে ২০০৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। শুরুতে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ইসলামের ইতিহাস এ তিনটি বিষয় নিয়ে কোর্স চালু হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে অনার্স কোর্সে ইংরেজি, অর্থনীতি, ইতিহাস ও উদ্ভিদবিদ্যা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু পূর্বের তিনটি বিষয়ের জন্য যে সংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজন তার বেশিরভাগ পদ এখনো শূন্য পড়ে রয়েছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজ সূত্রে জানা যায়, অনার্স কোর্সের প্রতি বিষয়ের জন্য অন্তত সাতজন শিক্ষক এবং মাস্টার্স কোর্সে ৫ জন শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। ডিগ্রি কলেজে অনার্স কোর্স চালু থাকলে চারজন শিক্ষক থাকতে হয়।

বর্তমানে রাঙামাটি কলেজে ডিগ্রি কোর্সের সঙ্গে অনার্স কোর্স চালু হওয়ায় হিসাববিজ্ঞানের জন্য একজন, ব্যবস্থাপনা বিষয়ের জন্য একজন, ইসলামের ইতিহাসে দু’জন, ইতিহাসে চারজন, ইংরেজিতে দু’জন, অর্থনীতিতে তিনজন, উদ্ভিদবিদ্যায় চারজন শিক্ষক রয়েছে।

কিন্তু, কলেজে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনার দু’টি বিষয়ে যেখানে কয়েকশ’ ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করছে সেখানে শিক্ষক রয়েছে মাত্র দু’জন।

ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, অনার্স বিষয়সমূহের জন্য শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ক্লাস করতে না পারায় তাদের প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকের কাছে একত্রে ৩০-৪০জন ছাত্রছাত্রী গাদাগাদি করে পড়তে হচ্ছে। যে কারণে ছাত্রছাত্রীরা তাদের ভালো ফলাফলের বিষয়ে সন্দিহান।

এছাড়া মাস্টার্স কোর্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছাড়া আর অন্যকোনো বিষয় না থাকায় অনার্স ও ডিগ্রি কোর্স শেষ করার পর ছাত্রছাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত বিষয় না পাওয়াতে বাইরে চলে যেতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাঙামাটি কলেজের একজন শিক্ষক বাংলানিউজকে বলেন, ‘এখানে এত বেশি শিক্ষক সংকট যে কারণে অন্যান্য শিক্ষকের কাজও আমাদের করতে হচ্ছে। আমি যখন অনার্সের একটি ক্লাস করাতে যাচ্ছি, তখন দেখা যায় অনার্সের আরেকটি ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা বসে আছে। আবার এর মধ্যে একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাসগুলোও করাতে হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য যেমন কষ্টকর, তেমনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্ষতি।’

তবে তিনি জানান, প্রত্যেক মাসে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ও শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বাঞ্ছিতা চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের মধ্যেও আমাদেরকে ভালো ফলাফলের জন্য কাজ করে যেতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটসহ আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে ফলাফল যেমন ভালো আসবে, তেমনি উচ্চ শিক্ষার জন্য পাহাড় থেকে ছেলেমেয়েদেরকে চট্টগ্রামে যেতে হবে না।’

তিনি আরো জানান, শিক্ষক সংকটের জন্য প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। কিন্তু, নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই।’

মাস্টার্সের একটি বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছাড়াও হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনাসহ আরো কয়েকটি বিষয়ের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান ।

অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের অভাব, লোকবল সংকট, ছাত্রী হোস্টেলে আসবাবপত্রের অভাব, ছাত্র হোস্টেল সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত প্রভৃতি।

এছাড়া বিজ্ঞান ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনটির অস্তিত্ব থাকবে না। কলেজের চারপাশে সীমানা প্রাচীর ও কলেজের পূর্ব-পশ্চিমে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় যেকোনো সময় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে।