অপরাধ ঢাকা

জাজিরায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ,নিক্ষেপ

Shariatpur Pic-2 শরীয়তপুর সংবাদদাতাঃ  আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রপের সংঘর্ষে জাজিরা থানার ওসি সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে আওয়ামীলীগের অফিস ও আশে পাশের ২৫/৩০টি দোকান পাট ব্যাপক ভাংচুর ও তছনছ করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় গ্রুপের লোকজন অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। পুলিশ উভয় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করতে ৩০/৪০ রাউন্ড ফাকা গুলি ও ১০টি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে । ৩ ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে জাজিরা উপজেলা সদর রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। জাজিরা থানার ওসি নাজমুল ইসলাম ও সরে জমিন ঘুরে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুর ১টার সময় জাজিরা ডিগ্রি কলেজে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি বিএম মোজাম্মেল হকের ছবি সংম্বলিত ব্যানার ফিস্টোন লাগাতে গেলে গত নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোবারক সিকদার গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতা রুবেল ইমরান, সাইফুলসহ কয়েকজনে জাজিরা ডিগ্রি কলেজে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমকে মারধর করে। পরে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা ইমরানকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার জের ধরে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পালাটা ধাওয়া শুরু হয়। গ্রেফতারের খবর মোবারক সিকদার গ্রুপের উত্তেজিত লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে জাজিরা টিএনটি মোড়ের বিএম মোজাম্মেলের সমর্থিত আওয়ামীলীগ অফিস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে। পরে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তারা পুলিশের সামনেই অস্ত্র-বোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে ও বৃষ্টির মত ইটপাটকে নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় গ্রুপের লোকজন অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে অর্ধশতাধিক শর্টগানের গুলী ও টিয়ারসেল ছুড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সন্ত্রাসীরা আশে পাশের ২৫/৩০টি দোকান পাট ব্যাপক ভাংচুর ও তছনছ করে। এ সময় জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম পুলিশ কনেস্টবল শাহজাহান, সুমন, আতাউর রহমান, এসআই আজহার হোসেন সংঘর্ষকারী নুরুল হক বেপারী ও কামাল শেখসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল ও জাজিরা উপজেলা স্বাস্ত্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পূনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে। সংঘর্ষ চলাকালে জাজিরা সদরের সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, আধিপত্য বিস্তার করতে মোবারক শিকদারের সমর্থকর নেতা রুবেল ইমরান, সাইফুলসহ কয়েকজনে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মারধর করেছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের একটি কার্যালয় ভাংচুর করেছে। হামলায় আমাদের ৫-৬ জন কর্মী আহত হয়।  জাজিরা থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে টিয়ারসেল ও সর্টগানের গুলি ছুড়তে হয়েছে। এখনো থানায় কোন পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। আওয়ামীলীগের নেতা মোবারক আলী সিকদার বলেন, এমপি মোজাম্মেল আমার জাজিরার বাড়ির সামনে একটি ক্লাব ঘর বানিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসীর আড্ডাখানা বানিয়ে দিয়েছে, ওটা আওয়ামীলীগের কোন অফিস নয়। তারা বুধবার সন্ত্রাসের উদ্যেশ্যে আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালালে জনগন হামলা প্রতিহত করে। শরীয়তপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, বর্তমান এমপি মোজাম্মেল হক ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মোবারক আলী সিকদার সমর্থকদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এ সময় হামলাকারীদের বোমা ও ইটপাটকেলের আঘাতে ৫ জন পুলিশ আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুড়ে। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি,এম মোজাম্মেল হক বলেন, আওয়ামীলীগ ও জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গ্রুপ প্রথমে জাজিরা কলেজে আমার সমর্থক দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে। পরে তারা জাজিরা টিএন্ডটি মোড়ে অবস্থিত দুইজন দোকানদারকে মারপিট করেছে। ওই সকল সন্ত্রাসীরা আমার ও দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্য সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। আমি আসা করবো আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।