অপরাধ খুলনা শিক্ষাঙ্গন

কুষ্টিয়ায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ!

images (10) কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে১৮ (সেপ্টেম্বের):  কুষ্টিয়ার কুমারখালি ডিগ্রী কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীন বিএ ও বিবিএসের পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ কাজে কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। এনিয়ে কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, নকল চললেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারিনা। নিজেকে শিক্ষক ভাবতে ঘৃণা হয়।’ কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এবছর কুমারখালি কলেজ থেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৬৫ জন ছাত্রছাত্রী বিএ ও বিবিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এসব পরীক্ষার্থীর বেশীর ভাগই বিবাহিত, চাকুরীজীবি ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রতি শুক্রবার এ পরীক্ষা কলেজের তিন কক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, পরীক্ষা শুরু হলে প্রত্যেকের কাছ থেকে কলেজের প্রধান অফিস সহকারি আমজাদ হোসেন ও পিয়ন একটি ঝুড়ি নিয়ে টাকা তোলেন। ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। এতে শুক্রবারের পরীক্ষায় প্রায় দশ হাজার টাকা আদায় করেন তারা। এছ্ড়াা টাকার বিনিময়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বর নৈব্যাত্তিক পরীক্ষার উত্তরও বলে দেয়া হয়। উন্মুক্তের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় একই ভাবে টাকা নেয়া হয়েছে এ কলেজে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া কুমারখালীর এক শিক্ষার্থী বলেন, ভাই আমরা অনিয়মিত ছাত্র। সারাদিন কাজ করার পর লেখাপড়ার সুযোগ হয়না। তাই শিক্ষকদের খুশি করতে কিছু টাকা দেয়া লাগে।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, টাকার বিনিময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা বেঞ্চের ওপর বই খুলে প্রশ্নের উত্তর লেখে। এতে তিনি বিব্রত হয়ে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন। ফোনে কথা হলে কুমারখালি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ হোসেন নকল ও টাকা তোলার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ও স্থানীয় প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। নকল করার প্রশ্নই আসে না। টাকা তোলার বিষয়টি জানা নেই। প্রধান অফিস সহকারি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমি টাকা তোলা ও নকলের সঙ্গে জড়িত এ কথা প্রমান করতে পারলে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেব।’ কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আরিফ উজ জামান বলেন, ‘নকলের ঘটনা সত্যি। এরকম অভিযোগ আমি পেয়েছি। নকল বন্ধের ব্যাপারে সর্বাত্বক চেষ্টা চালাচ্ছি। নকলে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’