অপরাধ খুলনা শিক্ষাঙ্গন

কুষ্টিয়ায় মাদরাসা সুপারের জালিয়াতি

kst-2 কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহাদুরপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মোখতার আলী তিন শিক্ষার্থীর উদ্দীপনা পুরস্কারের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করে হজম করতে না পেরে অবশেষে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে সেকায়েপ প্রকল্প থেকে বাহাদুরপুর দাখিল মাদরাসার ছয় শিক্ষার্থীর নামে উদ্দীপনা পুরস্কারের প্রত্যেকের পাঁচশত টাকা করে আসে। মাদরাসার সুপার মোখতার আলী তিন শিক্ষার্থীর উদ্দীপনা পুরস্কারের টাকা বুঝিয়ে দিলেও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুল জব্বার, ডলি খাতুন ও সপ্তম শ্রেণীর সবুজ আলীর পাঁচশত টাকা করে মোট ১৫ শত টাকা ৪ আগস্ট গোপনে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে আত্মসাতের চেষ্টা করেন। শুধু মাত্র তিন শিক্ষার্থীর টাকা এসেছে বলে সবাইকে মিথ্যা তথ্য দেন মাদরাসার সুপার মোখতার আলী। এর কিছুদিন পর উদ্দীপনা পুরস্কারের টাকা থেকে বষ্ণিত ওই তিন শিক্ষার্থী বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারে তিন জনের নয়, ছয় জনের টাকা মাদরাসায় আসলেও তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। খোজ নিলে বেড়িয়ে পড়ে মাদরাসার সুপারের টাকা আত্মসাতের ঘটনা। বিষয়টি তিন শিক্ষার্থী মাদরাসার সুপার মোখতার আলীকে জানালে তিনি আবারো অস্বীকার করে বলে তোমরা টাকা পাবে না। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা চালান তিনি। বাধ্য হয়ে তারা ৮সেপ্টেম্বরে লিখিত ভাবে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করে। তাল বাহানার কয়েকদিন পর তাদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন অনেক অর্থনৈতিক অপকর্মের হোতা মাদরাসার সুপার মোখতার আলী। তিনি কয়েকবার এমন অপকর্ম করেও কি ভাবে রেহায় পাচ্ছেন প্রশ্ন রাখেন অভিভাবকরা। উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরে সংশোধনের নামে দুই ছাত্রের সার্টিফিকেট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধন না করে বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলারের স্বাক্ষর ও সীল জাল করে সার্টিফিকেট তৈরি করে। সেই টাকা বাঁচিয়ে টাকা আত্মসাত ও জালিয়াতি করার অভিযোগে তিনি পালিয়েছিলেন পরে মাদরাসা থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করাও হয়েছিলো। এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, জানান অভিভাবক ও স্থানীয়রা। কিন্তু অভিযোগ প্রমানিত হলেও অদৃশ্য খুটির জোরে বার বার রক্ষা পাচ্ছেন, বহাল থাকছেন গুরুত্বপুর্ন মাদরাসা সুপার পদে। এ বিষয়ে বাহাদুরপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মোখতার আলী বলেন, টাকা তো আর আত্মসাত করিনি, দেরিতে হলেও ফেরত দিয়েছি। রিপোর্ট করার কি আছে। বাহাদুরপুর দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামীম আহম্মেদ বলেন, কমিটির কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে একটি বারের জন্য সুযোগ চেয়েছেন মাদরাসা সুপার মোখতার আলী। তিন শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত দিয়েছেন। পুনরায় এমন ঘটলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।