জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ সিলেট

সংবিধান অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন-প্রধানমন্ত্রী

Hasina20130916202529সিলেট প্রতিনিধি, হটনিউজ২৪বিডি.কম:  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ক্ষমতা কারো নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে কোনো মূল্যে এই নির্বাচন করা হবে। মঙ্গলবার বিকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার এমসি একাডেমি মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “যে কোন মুল্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেত্রীর সাধ্য নাই এ নির্বাচন বানচাল করার।”  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে সংসদ বহাল রেখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দশম সংসদ নির্বাচন হবে। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি বিএনপির। সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। ২৫ জানুয়ারির পর সংসদ থাকলেও কোনো অধিবেশন বসবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এজন্য সংবিধান সংশোধনের দাবি নাকচ করে আসছে। গত রোববার রংপুরে এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। বিএনপি চেয়ারপারসনের ওই বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্বাচন করতে দেবেন না। তবে তিনি ভোট চান না, নির্বাচন চান না! তিনি কী চান? সন্ত্রাস চান? জঙ্গিবাদ চান? এগুলো মানুষ চায় না, মানুষ শান্তি চায়।” যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য খালেদা জিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযোগ করেন তিনি বলেন, “বিচার হচ্ছে, রায় হয়েছে এবং কার্যকর হবে।” দেশকে রাকাকার আলবদর, যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের হাত থেকে নৌকাই বাঁচাবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি (খালেদা) নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন বলেছেন। কিন্তু সবার সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনিও আলোচনায় ছিলেন।”    নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিরোধী প্রার্থীরা কীভাবে জয়ী হলো- এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে সব নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নৌকা মার্কা দেখে ভোট দিন, আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনুন। আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। বাবা, মাসহ পরিবারের সবাইকে হরিয়েছি। পরিবারের একজনকে হারালে সেই ব্যথা সহ্য করাই কঠিন, সেখানে আমি সবাইকে হারানোর ব্যথা সামলে চলছি। আমি শুধু আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে বিমানবাহিনীর একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসনের হাত রয়েছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিডিআর বিদ্রোহের বিচার করছে। আসামিপক্ষের উকিল হিসেবে বিএনপির আইনজীবীরা বিনা পয়সায় লড়ছেন।

কার ও কোন স্বার্থে তারা এমনটি করছেন সেই প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী।