জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর স্বাস্থ্য

পদ্মার ভাঙনের ঝুঁকিতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী

KumarKhali -17-big20130917033305 কাঞ্চন কুমার ,কুষ্টিয়া, ১৭ সেপ্টেম্বর:  কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা তীরবর্তী শিলাইদহ পল্লীতে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য কুঠিবাড়িটিও। নদীর ভাঙনের ফলে উপজেলার ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার একর ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন ইমারত ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে নদী তীর সংরক্ষণে প্রস্তাবিত একটি প্রকল্প দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দী থাকায় এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা নদী তীরবর্তী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া, কালোয়া, শ্রীকোল, কান্দাবাড়ি, সুলতানপুর ও শিলাইদহ গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকা নদীর ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর ভাঙনের কারণে বিগত কয়েক বছরে আবাদী জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সর্বশান্ত হয়েছেন। প্রতিবছরই ২০/২৫ মিটার ভেঙে জনপদের দিকে এগিয়ে আসছে নদী।

এ বছরও ভাঙনের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহের মধ্যে নদী তীর সংলগ্ন সুলতানপুর ও বেড় কালোয়া গ্রামের ৪০/৫০টি বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন রোধে সত্বর নদী তীর সংরক্ষণ করা না গেলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িটিও পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পদ্মার তীর থেকে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি মাত্র ৪শ’ মিটার দূরত্বে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১ অক্টোবর পানি সম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন শিলাইদহে এসে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং নদীর ভাঙন থেকে কুঠিবাড়ি রক্ষায় সত্বর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ করেন। পরবর্তীতে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভাঙন রোধে নদী তীর সংরক্ষণে ডিজাইন তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর দুই বছর পরও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার জানান, নদী ভাঙন থেকে কুঠিবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা রক্ষায় সুলতানপুর থেকে শিলাইদহ ঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণের জন্য ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারিতে ১৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আজও সেটি অনুমোদন হয়নি।