জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি রাজশাহী

সংবিধান সংশোধন না হলে কঠিন আন্দোলন: খালেদা

Khaleda+(7) অপু, রাজশাহী থেকে হটনিউজ২৪বিডি.কম:  সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল করা না হলে ‘কঠিন’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খালেদা জিয়া। নির্দলীয় সরকার দাবির আন্দোলনে জনমত গঠনে উত্তরাঞ্চল সফরের তৃতীয় দিন রাজশাহীতে জনসভায় সরকারকে এই হুঁশিয়ারি দেন বিরোধীদলীয় নেতা। পুরে সমাবেশের একদিন বাদে সোমবার বিকালে রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ১৮ দলের এই জনসভায় বিএনপির সঙ্গে জোট শরিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরাও যোগ দেন। মাঠ ছাপিয়ে যাওয়া এই জনসভায় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের প্রতিকৃতি নিয়ে যেমন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা আসেন। তেমনি যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত গোলাম আযমসহ শীর্ষনেতাদের মুক্তির দাবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আসেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। সমাবেশের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা বলেন, “তারা দেশকে শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের বসে থাকার সময় নেই। কে বড়, কে ছোট, কে ডান, কে বাম, তা বিবেচনার সময় নেই।” রংপুরের জনসভায় এই সফরকে নির্বাচনী প্রচার না বলে খালেদা জিয়া বললেও আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে ছিল মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা। জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা বলে দিতে চাই, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। “এখনো সময় আছে, সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিল নিয়ে আসুন। সংসদ ভেঙে দেয়ার বিধান সংযোজন করুন। নইলে দেশে কঠিন আন্দোলন হবে।” সংবিধান সংশোধনের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বর্তমান বিধানে সংসদ বহাল থাকবে। এমপিরা থাকবেন। আবার নির্বাচনে নতুন এমপি মনোনয়ন দেয়া হবে। এরকম বিধান কোথাও নেই। এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।” সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে সংসদ বহাল রেখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দশম সংসদ নির্বাচন হবে। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি বিএনপির। সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। ২৫ জানুয়ারির পর সংসদ থাকলেও কোনো অধিবেশন বসবে না। দাবি না মানলে ২৫ অক্টোবরের পর ঢাকামুখী কর্মসূচি দেয়ার ইঙ্গিত দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। “সারা দেশের মানুষ ঢাকার দিকে যেতে সায় দিয়েছে। গতকাল রংপুরের জনসভায় বৃষ্টিতে ভিজেছে, তারা কেউ নড়েনি। আমরা কর্মসূচি দিলে তারাও সাড়া দিতে রাজি হয়েছে। তাই সেই কর্মসূচিতে আপনারা সবাই আসবেন।” আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে কোনঠাসা করার হুমকি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “এখনো জনগণ আপনাদের সম্মান করছে। ক্ষমতা থেকে চলে গেলে আপনাদের পরিণতি যা হবার তা-ই হবে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করব, তখন সরকারের পালাবার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।” দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা আবার জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “২০০৭ সালে আপনি বিচারপতি কে এম হাসানকে মেনে নেননি। দলীয় ব্যক্তি হিসেবে আপনাকে আমরা মানব না।” আওয়ামী লীগ ‘পাতানো’ নির্বাচনের ‘ষড়যন্ত্র’ করছে দাবি করে তা রুখে দিতে জনগণের প্রতি আহ্বানও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। “আওয়ামী লীগ একা নির্বাচন করতে চায়। কোনো দল তাদের সঙ্গে নেই, তাই এখন নতুন নতুন দল সৃষ্টি করছে।” সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “এক সময় বড় বড় নেতা ছিলেন, তাদের বলছি- দেশ রক্ষার জন্য আসুন একসঙ্গে আমরা বসব। দেখব, সরকার আমাদের ওপর কত গুলি চালাতে পারে।” ৪৮ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। বিডিআর বিদ্রোহের সময় পরিকল্পিতভাবে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মহাজোট সরকারের সময়ে পাঁচশ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আওয়ামী লীগ ‘রাজনীতি’ করে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “তারা সব সময় বলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের নির্যাতন চালানো হয়। এটা ঠিক নয়। বরং আওয়ামী লীগের আমলেই সংখ্যালঘুদের জমি-জমা ও মন্দির দখল করা হয়।” নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের ‘ভাবমূর্তি’ ক্ষুণ্ন করতে সরকারের তৎপরতার সমালোচনা করে তা বন্ধের দাবি জানান বিরোধী নেতা। সিলেটে সিপিবি-বাসদের সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কেমন গতকাল তা দেখা গেছে। সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে, এই গুণ্ডাদের সামাল দেন।” গত ৫ মে ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতবিরোধী অভিযানে ‘বহু’ আলেম-উলামাসহ মাদ্রাসার ছাত্র নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র এবং আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তিও দাবি করেন তিনি। সীমান্তে ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের বিচারে বিএসএফ সদস্যের সাজা না হওয়ায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “তাদের (সরকার) প্রতিবাদ করার সাহসও নেই।” আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবেন, জনসভায় তাও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। জঙ্গিদের নির্মূল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতির ধারা চালু, চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে ‘নতুন ধারার’ সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জনসভায় ১৮ দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অলি আহমদ, আন্দালিব রহমান পার্থ, মুহাম্মদ ইসহাক, আবদুল লতিফ নেজামী, আ ন ম শামসুল ইসলাম, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, শফিউল আলম প্রধান, খন্দকার গোলাম মূর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ফরিদুজ্জামান ফরহান, সাইফুদ্দিন মনি। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে জনসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, আমিনুল হক, নজরুল ইসলাম খান, সাদেক হোসেন খোকা, ফজলুর রহমান পটল, আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, হারুন অর রশীদ প্রমুখ। Khaleda+(7)স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, মহিলা সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া।